”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

একটু বাড়তি আয়ের আশায়….

৮ সদস্যের পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনের আয়ে সংসার চালানো কঠিন।বয়স্ক বাবা-মায়ের ওষুধ খরচ,সন্তানদের লেখাপড়া,ছোট ননদ-দেবরের খরচ কোন দিক দিয়েই দায়িত্ব এড়াতে পারি না।তাই চাকুরীর পাশাপাশি শুক্রবার করে আশেপাশের লোকজনের কাপড় সেলাই করি।এতে একটু হলেও খরচের টাকাটা মেটে..

Updated: January 14, 2026 — 4:09 pm

নারী ও গণপরিহন……………….

গত কাল বৃহস্পতিবার রাত সাথে বেতনের সময় হওয়ায় রাস্তায় এবং গাড়িতে উপচে পড়া ভিড় ছিলো।উপায়ন্ত না দেখে উঠে পড়ি বিআরটিসি বাসে।আমার অপর প্রান্তে ১৮/২০ বছরের ছেলে বসা ,ঠিক তার সামনের সিটে ভার্সিটি পড়ুয়া কোন মেয়ে(অেনুমান)।হঠাৎ মেয়েটির চিৎকার ঐ ১৮/২০ বছরের ছেলের উপর। কেন তাকে ব্যাড টাচ্ করা হলো এবং ছেলেটি যথারীতি ছাফাই দেয়া শুরু করলো।আশ্চার্যের বিষয় বাসের কিছু কোর্ট বোট পড়া লোক মেয়েটিকেই থামতে বলছেন এবং হাত লাগতেই পারে এ বিষয়ে মেয়েটিকেই বুঝাচ্ছে।অথচ বাসের প্রতিটি নারী চুপ তারা দৃশ্য অবলোকন করছিলেন।কিছুটা সময় নিয়ে স্যুট-বোট পড়া লোককে জানালাম কেন আপনি মেয়েটিকে বুঝাচ্ছেন,ছেলেটিকে একবারের জন্যও কিছু বলছেন না,কেন তাকেই থামতে বলছেন,কেন ছেলটিকে সিট পরিবর্তন অথবা বাস থেকে নামাচ্ছেন না।অবাক বিষয় তিনি আমার উপর চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করলেন।আমি নিজেও ছেড়ে দেয়ার মত ছিলাম না।সবার কথাতে ছেলেটির সীট পরিবর্তন করে দেয়া হয় এবং মেয়েটি আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরের স্টপেজে নেমে যান……….ভেবেছিলাম ঘটনা শেষ কিন্তু ২ স্টপেজ পর ৩ জন গারমেন্টসে কাজ করা আপারা উঠেন এবং ঐ ছেলেটির সামনেই বসেন ।৫ মিনিট পর একজন আপার সাথে একই ঘটনা ঘটে এবং এবার সুযোগ হয় স্যুট বাুট পরা লোকটিকে কিছু বলার এবং এবার উক্তক্তকারী ছেলেটিকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হলো এবং ভদ্রলোকের পোষাক পরা জ্ঞানহীন লোকটি সরি বললেন।

লক্ষনীয়ঃ

  • এখনো নারীকেই থামতে বলা হয়,তাকেই চিহ্ণিত করা হয়
  • যাত্রীরা অভিযোগকৃত /প্রতিবাদকৃত ২ জনকেই বিশ্লেষন করেন
  • এখনো বিড়ম্বনা /আত্মসম্মানের ভয়ে নারীরা কথা বলেন না.

রোকসানা ইয়াছমিন শিমুল

সেন্টার কো-অডির্নেটর

বড়বাড়ি-গাজীপুর

Updated: December 12, 2025 — 4:48 pm

নারীর ক্ষমতায়ন গায়ের রঙে নয় – যোগ্যতায়

নাম শিউলি আক্তার। গ্রামের কলেজ থেকে অনার্স পাস করে। গ্রামে থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ের জন্য নিজের আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা ধরনের বুলিংয়ের কথা শুনতে হতো। কথাগুলো ছিল এমন যে মেয়ের তো বিয়ের জন্য উপযুক্ত বয়স হয়েছে । শুধু পড়াশুনা জানা থাকলে হয় না পাত্রপক্ষের লোকেরা ফর্সা মেয়ে খুঁজে। মেয়ে তো কালা। গরীব ঘরের মেয়ে ফর্সা থাকলে তো মা বাবা যৌতুক ছাড়া বিয়ে দিতে পারতো। মেয়েটি স্থির করলো সে আর গ্রামে থাকবেনা। নিজে কিছু করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। হঠাৎ একদিন ঢাকায় চলে আসে এবং গার্মেন্টসে চাকুরী নেয়। মাস শেষে যখন গ্রামে টাকা পাঠায় তখন মা বাবা খুশি হয়। এখন লোকেরা বলে তার মা বাবাকে মেয়েকে বিয়ে দিবা ভালো ছেলে আছে যৌতুক লাগবো না। মেয়ে তো গার্মেন্টসে চাকুরী করে। মাস শেষে ভালো টাকা বেতন পায়। শিমুল বলে যে লোকেরা রঙে নয় যোগ্যতা দিয়ে মানুষকে সম্মান দিতে পারতনা তারা এখন আমার খোঁজখবর নেয়। কারণ আমি টাকা আয় করতে শিখে গেছি। চাকুরিটা আমার একটা পরিচয়, আত্মসম্মান ও ক্ষমতা। যার জবাব আমি এই সমাজের মানুষদের নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি।

Updated: December 5, 2025 — 3:36 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018