”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

নারী ও গণপরিহন……………….

গত কাল বৃহস্পতিবার রাত সাথে বেতনের সময় হওয়ায় রাস্তায় এবং গাড়িতে উপচে পড়া ভিড় ছিলো।উপায়ন্ত না দেখে উঠে পড়ি বিআরটিসি বাসে।আমার অপর প্রান্তে ১৮/২০ বছরের ছেলে বসা ,ঠিক তার সামনের সিটে ভার্সিটি পড়ুয়া কোন মেয়ে(অেনুমান)।হঠাৎ মেয়েটির চিৎকার ঐ ১৮/২০ বছরের ছেলের উপর। কেন তাকে ব্যাড টাচ্ করা হলো এবং ছেলেটি যথারীতি ছাফাই দেয়া শুরু করলো।আশ্চার্যের বিষয় বাসের কিছু কোর্ট বোট পড়া লোক মেয়েটিকেই থামতে বলছেন এবং হাত লাগতেই পারে এ বিষয়ে মেয়েটিকেই বুঝাচ্ছে।অথচ বাসের প্রতিটি নারী চুপ তারা দৃশ্য অবলোকন করছিলেন।কিছুটা সময় নিয়ে স্যুট-বোট পড়া লোককে জানালাম কেন আপনি মেয়েটিকে বুঝাচ্ছেন,ছেলেটিকে একবারের জন্যও কিছু বলছেন না,কেন তাকেই থামতে বলছেন,কেন ছেলটিকে সিট পরিবর্তন অথবা বাস থেকে নামাচ্ছেন না।অবাক বিষয় তিনি আমার উপর চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করলেন।আমি নিজেও ছেড়ে দেয়ার মত ছিলাম না।সবার কথাতে ছেলেটির সীট পরিবর্তন করে দেয়া হয় এবং মেয়েটি আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরের স্টপেজে নেমে যান……….ভেবেছিলাম ঘটনা শেষ কিন্তু ২ স্টপেজ পর ৩ জন গারমেন্টসে কাজ করা আপারা উঠেন এবং ঐ ছেলেটির সামনেই বসেন ।৫ মিনিট পর একজন আপার সাথে একই ঘটনা ঘটে এবং এবার সুযোগ হয় স্যুট বাুট পরা লোকটিকে কিছু বলার এবং এবার উক্তক্তকারী ছেলেটিকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হলো এবং ভদ্রলোকের পোষাক পরা জ্ঞানহীন লোকটি সরি বললেন।

লক্ষনীয়ঃ

  • এখনো নারীকেই থামতে বলা হয়,তাকেই চিহ্ণিত করা হয়
  • যাত্রীরা অভিযোগকৃত /প্রতিবাদকৃত ২ জনকেই বিশ্লেষন করেন
  • এখনো বিড়ম্বনা /আত্মসম্মানের ভয়ে নারীরা কথা বলেন না.

রোকসানা ইয়াছমিন শিমুল

সেন্টার কো-অডির্নেটর

বড়বাড়ি-গাজীপুর

Updated: December 12, 2025 — 4:48 pm

নারীর ক্ষমতায়ন গায়ের রঙে নয় – যোগ্যতায়

নাম শিউলি আক্তার। গ্রামের কলেজ থেকে অনার্স পাস করে। গ্রামে থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ের জন্য নিজের আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা ধরনের বুলিংয়ের কথা শুনতে হতো। কথাগুলো ছিল এমন যে মেয়ের তো বিয়ের জন্য উপযুক্ত বয়স হয়েছে । শুধু পড়াশুনা জানা থাকলে হয় না পাত্রপক্ষের লোকেরা ফর্সা মেয়ে খুঁজে। মেয়ে তো কালা। গরীব ঘরের মেয়ে ফর্সা থাকলে তো মা বাবা যৌতুক ছাড়া বিয়ে দিতে পারতো। মেয়েটি স্থির করলো সে আর গ্রামে থাকবেনা। নিজে কিছু করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। হঠাৎ একদিন ঢাকায় চলে আসে এবং গার্মেন্টসে চাকুরী নেয়। মাস শেষে যখন গ্রামে টাকা পাঠায় তখন মা বাবা খুশি হয়। এখন লোকেরা বলে তার মা বাবাকে মেয়েকে বিয়ে দিবা ভালো ছেলে আছে যৌতুক লাগবো না। মেয়ে তো গার্মেন্টসে চাকুরী করে। মাস শেষে ভালো টাকা বেতন পায়। শিমুল বলে যে লোকেরা রঙে নয় যোগ্যতা দিয়ে মানুষকে সম্মান দিতে পারতনা তারা এখন আমার খোঁজখবর নেয়। কারণ আমি টাকা আয় করতে শিখে গেছি। চাকুরিটা আমার একটা পরিচয়, আত্মসম্মান ও ক্ষমতা। যার জবাব আমি এই সমাজের মানুষদের নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি।

Updated: December 5, 2025 — 3:36 pm

জিবিভির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আমার/আমাদের যুদ্ধ — ঘরে ও বাইরে এক অবিরাম লড়াই

আমি একজন কর্মজীবী নারী। প্রতিদিন নতুন উদ্যমে কাজে বের হই, নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলি, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলি—কিন্তু সত্যিটা হলো, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপেই আমি জিবিভি (জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা)-র বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ কঠিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।
নিজের ঘর থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত—কোথাও যেন বিরাম নেই। ঘর ঠিক হলে বাইরে সমস্যা, বাইরে ঠিক থাকলে ঘরে। এই লড়াইয়ের কোনও একমুখী পথ নেই, নেই সহজ সমাধান।

কাজের সুবাদে বিভিন্ন সংগঠন, অফিস, আদালত ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মাঝে মাঝে মনে হয়—
এই সমস্যাটার সমাধান কি আমি নিজেই করে ফেলতে পারবো?”
কিন্তু মুহূর্তেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—সমাজ আমার জন্য কোনও সহজ পথ সাজিয়ে রাখেনি।
আমি চাইলে হয়তো চুপ করে থাকতে পারতাম, চোখ বন্ধ করে কিছু না দেখে থাকার ভান করতে পারতাম। কিন্তু পারি না। কারণ মনের গভীরে বারবার মনে হয়—
আমাকেই করতে হবে, আমাকেই দাঁড়াতে হবে।

পরিবার আজ আমার পথচলাকে মেনে নিয়েছে, সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু সমাজ যেন প্রতিদিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে —নারীর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশ—সবকিছুই যেন পরীক্ষার মুখে

তবুও আমার প্রশান্তি এক জায়গাতেই—
যখন দেখি ৪–৫ জন মানুষ আমার কারণে উপকৃত হয়েছে, আলো দেখেছে, সাহস পেয়েছে;
যখন বুঝি আমি কারও জীবনে একটুকু আলোর দিশা হতে পেরেছি—
ঠিক তখনই উপলব্ধি করি, আমার লড়াই সার্থক।

জিবিভির শেকড় এতটাই গভীরে প্রোথিত যে আমাদের মতো কয়েকজন মানুষের লড়াইয়ে তা উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। যদি এত সহজ হতো, তাহলে অসংখ্য সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক আজও একই কথা বলত না—
জিবিভি বন্ধ করো, প্রতিরোধ গড়ে তোলো।

জিবিভি বন্ধের এই যুদ্ধ কোনো ব্যক্তির একার লড়াই নয়—এটি সমষ্টিগত পরিবর্তনের ডাক। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে দাঁড়াই, কথা বলি, প্রতিরোধ গড়ে তুলি—তবেই হয়তো একদিন সহিংসতামুক্ত সমাজের স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ পাবে।

নামঃরোকসানা ইয়াছমিন শিমুল

সেন্টার কো-অডির্নেটর

বড়বাড়ি-গাজীপুর

Updated: December 5, 2025 — 3:28 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018