বিশ্ব মোড়লদের কর্তৃত্বের খেলায় যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আজ উত্তপ্ত। কতদিন এরকম চলবে তা কেউ জানে না। অনেক উৎকণ্ঠা নিয়ে সারা বিশ্বের চোখ এখন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে উদ্দেশ্য একটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক খনিজ তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে ঠিকঠাক থাকে।
মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত হবার কারণে সারা বিশ্বের মত এরই মধ্যে প্রভাব পরতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানী বাজারে। সরকারের ঘোষণা ছাড়াই জ্বালানী তেলের দেশীয় ভোক্তারা দাম বেড়ে যেতে পারে এমন চিন্তা করে প্রয়োজনের চাইতে বেশী করে জ্বালানী তেল কেনা শুরু করতে থাকে যার জন্য দেশের বাজারে শুরু হয় কৃত্তিম সংকট। পেট্রোল পাম্প গুলোতে দীর্ঘ যানবাহনের লাইন, পাম্পে ক্রেতাদের মধ্যে হট্রগোল ইত্যাদি নানান ঘটনায় সরকার বাধ্য হয় পেট্রোল পাম্প গুলোতে নির্দেশনা জারি করতে।
নতুন নির্দেশনা মোতাবেক পালন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে পেট্রোল পাম্প গুলোতে দীর্ঘ সারি এবং সামনের ঈদ যাত্রায় গার্মেন্টস শিল্প অঞ্চলে কর্মরত লক্ষলক্ষ জনগণ গ্রামের বাড়িতে যাবার প্রস্তুতিতে ঈদ যাত্রাকে ঘিরে সম্ভাব্য পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাবার নতুন উদ্বেগ তৈরী হয়েছে।
একটু পিছনে ফিরে গেলে আমরা দেখতে পাই এই পরিবহন সেক্টরগুলো সংকটের সময় ভাড়া নামক শঙ্কা বাড়িয়ে থাকে যেমনঃ- আকাশে মেঘ করলে ভাড়া বেড়ে যায়, অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পরিবহন সংকটে ভাড়া বেড়ে যায়, ভূমিকম্প হলে ভাড়া বৃদ্ধি, অতিরিক্ত গরম পরলে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়, একটু বেশী ঠান্ডা পরলে ভাড়া বৃদ্ধির ব্যবস্থা হয়, ঈদ যাত্রায় প্রতি বছরই ভাড়া বৃদ্ধির চিত্র দেখা যায়, কোন দিবসে রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রী দেখলে ভাড়া বৃদ্ধি করে থাকে আর এখনতো সারা বিশ্বেই জ্বালানী সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত হয়ে আছে আর তার মধ্যে সামনে ঈদের সময় প্রচুর মানুষ প্রিয় জনদের সাথে ঈদ করতে গ্রামের বাড়ীতে যাবেন।
গাজীপুর শিল্প অঞ্চলে কর্মরত বিভিন্ন শ্রমিকেরা জানিয়েছে- এমনিতেই যেকোন সময় শ্রমিকরা গ্রামের বাড়িতে যাবার উপলক্ষ্য তৈরী হলে পরিবহন সেক্টরে জোর করে বাড়তি ভাড়া আদায় করে থাকে আর এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে ঘাটতি এবং সেই সাথে ঈদযাত্রা। সবমিলিয়ে এবার যাত্রীদের পকেট ফাঁকা হবে বেশী এটা নিশ্চিত।
বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় জানিয়েছে জ্বালানী তেলের সরবরাহ ঠিকঠাক রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে এবং ঈদের আগে জ্বালানী তেলের দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশনায় একটি যানবাহন কতটুকু জ্বালানী সংগ্রহ করতে পারবে সেহিসেবে চলতে গেলে ঈদ যাত্রায় দূর পাল্লার যানবাহন ঘনঘন থামতে হবে জ্বালানী তেল সংগ্রহ করার জন্য। এতে খরচ বেড়ে যাবার পাশাপাশি তীব্র যানজট হবার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।
এবারের আসন্ন ঈদ যাত্রায় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার, প্রশাসন, শ্রমিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, মালিক পক্ষ, শ্রমিক পক্ষ মিলে আগে থেকেই একত্রিত হয়ে উদ্যেগ নিতে হবে যাতে এরকম সংকটে জনগণের সামান্য বাড়তি কোন প্রকার খরচ না হবার শঙ্কা যাতে না হয় এবং জ্বালানী বাজার অস্থিরতাকে সুযোগ নিয়ে পরিবহন সেক্টর কোনভাবেই ভাড়া বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
নওশাদ রায়হান
বিসিডব্লিউএস-কোনাবাড়ী।

সংকটের সময় শঙ্কা!







Users Today : 17
Users Yesterday : 139
This Month : 4317
This Year : 59344
Total Users : 139842
Views Today : 57
Total views : 524850
Who's Online : 4