”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

ছেঁড়া শাড়ির কাথার ভাজে লুকানো গল্পঃ শ্রমজীবী শমলার দিনলিপি….

আমার পাশের বাসার একজন সহকর্মী বাসায় গিয়ে দেখতে পায় ঘরের দেওয়ালে ছোপ ছোপ দাগ আর পাকার মেঝের ওপরে বসে আছে । হালকা হাসি মুখে , হাতে সাদা মাটা একটা ছেঁড়া কাথা। তিনি একজন গার্মেন্টস নারী শ্রমিক, নাম তার শমলা। বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি । তার জীবনের কষ্টের কথা শুনে মনে হয় প্রতিটি দিন সে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। কমিউনিটির ছোট গলির ভেতর দিয়ে প্রতিদিন হাঁটেন কারখানার দিকে – মনে মনে ভাবেন. “ আজকের দিনটা যেন ভালো হয়।”

ছোট একটা ঘরে বড় সপ্ন

শমলার পরিবারে ৭ জন সদস্য । স্বামী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে। স্বামীও কাজ করে গার্মেন্টসে। বড় মেয়েটি গার্মেন্টসে চাকরি করে এবং তার বিয়েও প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। পাত্রটি ছোট একটা জুতার দোকানে কাজ করে। সেই খবর রিনার মুখে এক টুকরো প্রশান্তি আলো এনে দেয়, অনেকদিন পর যেন একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়ে বাসায় থাকে, মায়ের হাতে খুঁটিনাটি কাজ সামলায় আর দুই ভাইয়ের দেখাশুনা করে। গ্রামে বৃদ্ধ শ্বাশুড়িকে ঔষধ কেনার জন্য মাঝেমধ্যে কিছু টাকা পাঠাতে হয়।

তবুও হাসি

ছবিতে যেভাবে তিনি বসে আছেন, তাতে বোঝা যায় সব সব কষ্টের মাঝেও একটা স্বাভাবিক জীবনের ছোঁয়া রাখার চেষ্টা আছে তার। হয়তো পুরনো কাপড় জোড়াতালি দিয়ে , একটা কাঁথা বানিয়েছে নিজের হাতে। তাতে যতই ছেঁড়া থাকুক না কেন, সেটা তার হাতে সেলাই করা, তাতে মায়া আছে। এই কাজই তার জন্য গর্ব। তিনি সেই শ্রমিক, যার আঙ্গুলে রক্ত জমে , তবুও মুখে হাসি।

এই গল্প শুধু শমলার নয়

এই গল্প ঢাকার হাজারো শমলার। যারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কারখানায় ঘামে গড়ে তুলেছে দেশের অর্থনীতি। অথচ নিজেরাই থাকে নোংরা পরিবেশে। শমলা আমাদের চোখে একজন মহান নারী শ্রমিক । কারণ প্রতিটি পোশাকের সুতোর ভাজে লুকিয়ে থাকে এমন একজন শমলার গল্প, যেটা আমরা দেখি না , শুনি না।

আমরা যা করতে পারি-

এইসব শ্রমিকদের জন্য আমাদের প্রয়োজন আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। ন্যায্য মজুরী, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মান। এই জিনিসগুলো তাদের প্রাপ্য।

Updated: June 26, 2025 — 12:12 pm

গোডাউনের -ময়লা,ধুলা -বালুর মধ্যেও বেচে থাকা….

যেখানে 40-50 বয়সের শ্রমিক,ভোটার আইডি কাডের্র সমস্যা, বাচ্চা রাখার সমস্যাসহ অনেক শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয় ,বিভিন্ন গোডাউনে ঝুট বাছাই করা।কম মজুরী সারাদিন কাজ করে 150-200 টাকার কাজ,ধুলার মধ্যে কাজ যা উপার্জন হয় ,সংসারে খরচ চালানো কষ্ট ,শারীরিকভাবে নিজের ,বাচ্চার,শ্বাস কষ্ট হয়। তার খরচ কই পাই।সমাজে সবার কথা ভাবা উচিৎ,গোডাউনের কাজ করা শ্রমিকরা ও তো মানুষ।এখান থেকেও উপার্জন করে ঝুট মালিকরা । তাদের ভাবা উচিৎ এ সকল ঝুট মালিকদের।

Updated: June 22, 2025 — 5:10 pm

জলবদ্ধতায় সহকর্মীর জীবন সংগ্রাম….

বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানি ওঠে,বাসার সামনে পানি,বাচ্চাদের নিয়ে ঝুকি,সব কিছু মিলে কারখানায় ,কর্মস্থলে ,বাসায় ,রাস্তায়,সপ্তাহে কখনো একদিন বন্ধ পায়,আবার কখনো বন্ধ পায় না, ছুটি পেলে বাসার কাজ ,বৃষ্টিতে ভেজা সব কিছু শুকানো,রোধ না থাকা সব মিলে চলছে জীবন সংগ্রাম।

Updated: June 22, 2025 — 4:36 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018