প্রতিটি কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার থাকা শুধু “ভালো উদ্দ্যেগ”নয়“বরং এটি সময়ের দাবি। ভায়ারকে দেখানো নয়।বাস্তবায়ন করতে হবে প্রত্যেকটা কারখানায়।আমার বন্দুবী তার 2 সন্তান, তার সন্তানদের যখন কোলে তুলে নেন।তখন তার মুখের হাসিটা কত অনন্দময় তা একমাত্র তার মা উপলব্দি করতে পারেন।একজন মা যখন তার সন্তানদের ভালোভাবে রেখে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে।তখন সে তার সর্বচ্চটুকু দিতে পারে কর্মস্থলে।তাই প্রতিটি কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা হোক।
গর্ভবতী হওয়া কি দোষের যার কারনে চাকুরী হারাতে হলো রাশেদার?
গর্ভকালীন সময় যখন আমার ৩ মাস তখন আলট্রাস্নোগ্রাফের রিপোর্টে নিয়ে কারখানার ওয়েলফেয়ার ম্যাডামের কাছে জমা দেওয়ার জন্য যাই কিন্তু ওয়েলফেয়ার ম্যাডাম আমার রিপোর্টে জমা না নিয়ে আমাকে চলে যেতে বলে তারপর আমি এডমিনের চেম্বারে গিয়ে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলি। তখন আমাকে আবার ওয়েলফেয়ারে পাঠায় এবং আমার আলট্রাস্নোগ্রাফের রিপোর্ট জমা নেয় কিন্তু কোন স্বাক্ষর করে নাই। তারপর থেকে আমি ডিউটি করে যাচ্ছি যখন আমার গর্ভকালীন সময় ৭ মাস হয় তখন কারখানার কতৃপক্ষ এসে আমাকে বলে তুমি রিজাইন দিয়ে চলে যাও আমি রিজাইন দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলে কারখানায় বর্তমানে অনেক গর্ভবতী নারী আছে তোমাকে মাতৃত্বকালীন কোনসুবিধা বা ছুটি কিছুই দেওয়া যাবেনা তাই তুমি চলে যাও।

আরো বলে কারখানায় যদি একসাথে এত গর্ভবতী নারীর সুবিধা দিতে হয় তাহলে কোম্পানীর অনেক লস হয়ে যাবে তাই তুমি রিজাইন দাও। এখন আমার প্রশ্ন গর্ভবতী কি হওয়া অন্যায় বা দোষের। এই বাচ্চারটাকে যাতে ভালভাবে, সুষ্ঠভাবে পৃথিবীতে আনতে পারি তারজন্য আমি কর্মক্ষেত্রে অনেক পরিশ্রম করেছি কিন্তু এখনতো আমার চাকুরীটাই চলে গেল আমি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছি কিভাবে কি করবো কিভাবে আমার সন্তানকে সুষ্ঠুভাবে পৃথিবীতে আনবো????
একটু সুখ চাইলে চাকরি যায়
বৃষ্টির শব্দে আজ ভোরে ঘুম ভাঙতেই রোজিনার মনে হল—এই একদিন যদি আমার হতো! গার্মেন্টস না গিয়ে ছেলেটাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকতাম, স্বামীর সাথে একটু কথা বলতাম। দুপুরে গরম খিচুড়ি, ডিম ভাজা, আর বেগুন ভাজা—বড় সাধারণ একটা স্বপ্ন, কিন্তু তাও যেন আকাশের চাঁদ।
চাল আছে এক মুঠো, ডিম কিনতে গেলে বাজারে তাকাতে ভয় লাগে। এতটুকু খরচ করলেই মাসের হিসাব উল্টে যায়।
ঘরের চালে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে, আর তার মতোই পড়ে সংসারের চিন্তা। ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে পানি এসে বিছানার এক কোণ ভিজিয়ে দেয়, ঘরের কোণায় পচা গন্ধ, ভেজা মেঝেতে হাঁটা দায়। রান্নাঘর তো নেই, শুধু বাড়ির একপাশে ইটের ওপর খোলা জায়গায় রাখা গ্যাসের চুলা। বৃষ্টি নামলেই চুলার চারপাশে বাতাসের তুফানে বারবার আগুন নেভে যায়। গ্যাস লাইনের চাপও কম, অনেক সময় আগুন জ্বলেই বন্ধ হয়ে যায়, রান্না মাঝপথে থেমে যায়।
আর ছুটি? ছুটি চাই মানেই গালিগালাজ, “তোর কাজের দরকার নাই” বলা, বোনাস কেটে নেওয়ার ভয়, ছাঁটাইয়ের হুমকি। কেউ ভাবে না, এই মেয়েটারও মন আছে, ক্লান্তি আছে, একটু বসে নিঃশ্বাস নেওয়ার ইচ্ছা আছে।
বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ে, রোজিনা চুপচাপ কাপড় পরতে থাকেন, কারন তিনি জানেন তার একদিন আসবে না— গরিবের ইচ্ছেগুলো শুধু ঘরে না, মনে জমে থেকে শুকিয়ে যায়।






Users Today : 192
Users Yesterday : 240
This Month : 2065
This Year : 50795
Total Users : 131293
Views Today : 332
Total views : 473165
Who's Online : 1