”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

অসহায় এক নারী শ্রমিকের গল্প:

লাইজুর ছোট বেলায় বাবা মা মারা যায় ভাইয়ের সংসারে বেড়ে উঠা ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। তারপর থেকে শুরু হয় স্বামীর সংসার লাইজুর পরিবার জানতনা যে ছেলে কাছে তাদের মেয়েকে পাঠানো হয়েছে সে একজন মাদকাসক্ত।
মাদকাসক্ত স্বামীর সংসারে গিয়ে শুরু হয় লাইজুর জীবনের যুদ্ধ। নেশা করে এসে লাইজুর স্বামী লাইজুকে প্রায়ই মারধর,অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতো। লাইজু চুপ করে মুখ বুজে সব সহ্য করতো কারন তা বাবা মা নাই ভাইয়ে সংসারে ফিরে গিয়ে ভাইয়ের বুঝা হতে চাইনাই।
এক এক করে লাইজু দুই সন্তানের জননী হয় কিন্তু যতদিন যাচ্ছে লাইজুর স্বামী অত্যাচার ততই চলছে তারমধ্যে লাইজু আবারও গর্ভবতী হয় তখন সে স্বামীর অত্যচার সহ্য করতে না পেরে ভাইয়ের সংসারে ফিরে যায়। লাইজুনএখন তিন সন্তানের জননী। ২ বছর পর্যন্ত লাইজু তার তিন সন্তান নিয়ে ভাইয়ের সংসারে থাকে। কিন্তু লাইজু ভাবে সন্তানদের নিয়ে সে আর কতদিন ভাইয়ের সংসারে থাকবে তাকে একটা কিছু করতে হবে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য । যে ভাবা সেই কাজ লাইজু তিন সন্তান নিয়ে ঢাকায় আসে চাকুরীর খোঁজে। আশুলিয়া এরিয়াতে হেলপার পদে একটি সাব কন্টাক কারখানায় কাজ নেয় লাইজু। তারমধ্যে দুই পরিবারের সিদ্বান্তে লাইজু স্বামীকে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়। লাইজু কাজ করে পোশাক করাখানায় আর সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে তারই ১০ বছরের কন্যা সন্তানের উপর। ভাইবোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেনীর পর তার স্কুল জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তিন মাস পর রিহ্যাব থেকে লাইজুর স্বামীকে আনা হয় এবং সে লাইজু সংসারে ফিরে আসে। লাইজুর স্বামী সারাদিন বাসায় থাকে আর লাইজু কর্মক্ষেত্রে যুদ্ধ করে। লাইজু প্রতিদিন কাজ থেকে বাসায় ফিরে শুনে তার স্বামী সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে মারধর করে।
লাইজুর বক্তব্য কর্মক্ষেত্রেও যুদ্ধ বাসায়ও যুদ্ধ এই জীবন আর ভাল লাগেনা মাঝে মাঝে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে কিন্তু সন্তানদের কথা চিন্তা করে আর কিছু করতে পারিনা।

Updated: April 10, 2025 — 2:31 pm

মুহুুর্তে সব ‍কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেলো…

আমাদের নাগির্গ্রামস আপা,গারমেন্টস এ চাকরী করি বলে বহু বছরের চেনা জানা। গ্রাম থেকে এসে অভাবের তাড়নায় গামের্ন্টন্সে চাকরি নেয়।স্বামীর সাথে বুনিবুনিয়াত নেই,সন্তানদের রেখে দূরে আসা কতটা কষ্টের সে যন্ত্রনা বুজানো যাবে না ।মনে ছিলো আনন্দ গামের্ন্টস ছুটির পর বাসায় ফিরছিলাম ,ভাবছিলাম-মা-বাবা ,সন্তানদের জন্যে ঈদের কেনাকাটা করেছিলাম তা নিয়ে সবার সাথে ঈদে আনন্দ করবো।কিন্তু বাসায় ফিরে দেখি আগুনে পুড়ে ছাই…পরনের কাপড়টা ছাড়া কিছুই যে রইলো না অবশিষ্ট। ছোট ছোট স্বপ্ন ছিলো ,প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এনআইডিকার্ড,ঘরে ছিলো ৩০০০০ টাকা ,কিছুই রইলো না।বেচে আছি জিন্দা লাস হয়ে।

Updated: April 9, 2025 — 4:00 pm

গার্মেন্টস কর্মীর যৌগ্যতা অনুযায়ী (পদবী/গ্রেড) পদোন্নতি নির্ধারন না করায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ

সালমা (ছদ্মনাম) একজন নারী ২০১৪ইং সালে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানাতে হেলপার পদে চাকুরীনেন। প্রায় ০১ (এক) বৎসর হেলপার পদে চাকুরী করার পর তার কাজের মানযাচাই করে তাকে সহকারী অপারেটর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সহকারী অপারেটর পদে ০৬ (ছয়) মাস কাজ করার পর তাকে জুনিয়র অপারেটর পদে কাজ দেওয়া হয়। একই পদে প্রায় ০২ (দুই) বৎসর কাজ করার পর তাকে সিনিয়র অপারেটর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।

নারী শ্রমিকের প্রতিকী ছবি।

২০১৭ইং সালে তিনি গাজীপুর থেকে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে আশুলিয়া এরিয়ার একটি পোশাক কারখানাতে চাকুরী নেন। সেখানে ইন্টারভিউ দেওয়ার পর পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা যাচাই করে তাকে সিনিয়র অপারেটর পদেই নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ০৪ (চার)  বছর ঐ কারখানাতে তিনি সিনিয়র অপারেটর পদে কাজ করেন। শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলার কারনে এবং কারখানাতে ইউনিয়ন গঠন করার কারনে কারখানা কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে টার্মিনেট করে।

কিছুদিন যাওয়ার আশুলিয়া এরিয়ার অন্য একটি পোষাক কারখানাতে চাকুরীর ইন্টারভিউ দিলে সেখানে তাকে জুনিয়র অপারেটর পদে নিয়োগ দেন। তখন সালমা এই পদবী/গ্রেড সিস্টেমের প্রতিবাদ করলে তাকে ঐ কারখানাতে থেকে বাহির করে দেওয়া হয়।

সেখান থেকে চাকুরী যাওয়ার পর সালমা আশুলিয়ার আরও একটি পোশাক কারখানাতে চাকুরীর ইন্টারভিউ দিয়ে চাকুরী নেন। সেখানে তাকে অপারেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে ও তিনি পদবী/গ্রেড সিস্টেমের প্রতিবাদ করেন এবং সেখানে কয়েক মাস তিনি একই পদে কাজ করার পর কারখানার লাইন চীফের হয়রানি/বাজে প্রস্তাবের কারনে চাকুরী ছেড়ে চলে আসেন।

দীর্ঘ ১১ বছর এই সেক্টরে কাজ করার পর ও সালমা আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর পদে চাকুরী করছেন। সালমা বলেছেন পূর্বে আমার যে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল তা কারখানা কর্তৃপক্ষ মূল্যায়ন করলে আমি এখন কারখানার সুপারভাইজার অথবা লাইন চীফ পদে চাকুরী করতাম।

সালমার মতো লাখো নারী ও পুরুষ শ্রমিক জোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি না পেয়ে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এই কারখানার শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রাখলে ও নিজেরাই অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

সালমা বলছেন শ্রম আইনে গ্রেডের যে সিস্টেম দেওয়া হয়েছে তা কারখানা ম্যানেজমেন্ট মানছেন না। কারখানা গুলোতে বেতন নিয়ে বৈষম্য না থাকলে ও গ্রেড নিয়ে অনেক বৈষম্য আছে।

সালমার মতো আরো ও অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বলছেন শ্রমআইনে গ্রেডের বিষয়টি সংশোধন করা অত্যান্ত জরুরী। প্রতি ০১ (এক) বছর পরপর শ্রমিকদের কাজের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে তাকে পদোন্নতি দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাহলেই এই পোশাক কারখানা গুলোতে কাজের মূল্যায়ন ও সমতা বজায় থাকবে।

Updated: March 13, 2025 — 12:18 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018