”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

জলবায়ু পরিবর্তনঃ কে দায়ী আর কে ভুক্তভোগী?

আমার নাম মোছাঃ আরিফা, বয়স- ৩০ বছর। আমি আশুলিয়া এলাকার প্রায় ০৭ বছর যাবৎ পোশাক কারখানায় চাকরি করি। আামার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি থানায়। আমাদের জেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বন্যাপ্রবন এলাকার একটি। ছোটবেলা থেকেই আমাদের এলাকার মানুষকে বন্যার সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে দেখেছি। প্রতি বছর আমাদের এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। আগে বছরে একবার বন্যা হতো, কিন্তু গত ১০-১২ বছর যাবৎ বছরে ২বার, কোন কোন বছর ৩ বার পর্যন্ত বন্যা হওয়া শুরু হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে অসময়ে অত্যাধিক বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে মাঠের ফসল, পকুরের মাছ, গরু-ছাগল, হাস-মুরগি, ঘড়বাড়ি সব শেষ হয়ে যায়। বার বার ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখানে জীবন যাপন করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। তাই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে আসি, এখানে গার্মেন্টেসে চাকরি করি। আমার এলাকার অনেকেই আমার মত ঢাকায় চলে এসছে। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে একেবারে চলে এসেছে। আমার মা-বাবা এখনো গ্রামেই আছে। চাকরি করে প্রতিমাসে তাদেরকে কিছু টাকা পাঠাই। গত বছর মোট ০২ বার বন্যা হয়, জুন মাসে ও অক্টোবর মাসে। জুন মাসে একটানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ঢুবে যায়। তখন মাঠে বাদাম, পটল, পাট, তিল, মরিচের মত সবজি-ফসল ছিল, এগুলো সব শেষ হয়ে যায়। এরপরে মানুষজন আবার ফসল চাষ করে। অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে শুরুহয় প্রচন্ড ঝড় আর বৃষ্টি। অক্টোবর মাসে এমন ঝড় আমি আগে কখনো দেখি নাই। এরপর শুরু হয় বন্যা। এই বন্যায় শুধু মাঠের ফসল না, ঘড়বাড়িও তলিয়ে যায়। প্রকৃতির এমন ভয়ংকর চেহারার সামনে আমরা অসহায়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হওয়া এই ঝড়-বৃষ্টি-বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ আমরা কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা কতটুকু দায়ী?

প্রতিকী ছবি।

Updated: July 6, 2026 — 10:59 am

যাবো কোথায় …..

আমার চোখে দেখা সহকর্মীর দূ:খের ঘটনা: ক্ষমতা আছে বলেই বাড়িয়ালাদের ক্ষমতার লোভ লালসায় আমরা শ্রমিকরা সারাজীবনের অর্জন দিয়ে এক খন্ড জমি কিনেছেন।বাড়িয়ালা ভালো জমি কিনে দিবে বলে জমি বিক্রি করান।6 লাখ টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয় নাই ,জমি ও কিনে দেন নাই।টাকার শোকে জ্যান্ত লাস হয়ে। বিধবা নারীর জীবন চলছে কলা গাছের ভ্যালা ও সাগরে ভাসা কচুরির মতো যখন যেখানে থেমে আবার যেভাবে চলে।হাচিনা হেলপার পদে চাকরি করে,ছেলে পাগল ,স্বামী-হারা বিধবা একজন নারী। দুই সন্তান নিয়ে চলছে জীবন যুদ্ধ ।এদিকে বাবার বাড়ির সম্পদটুকু ভাইরা দেন নাই।যার কাছেই যায় সেই ক্ষমতা শালীর কাছে অসহায়। আমরা যাবো কোথায়?

Updated: May 21, 2026 — 4:58 pm

আর ফিরে আসবেনা …..

আমার ভাতিজিটা এই রানা প্লাজায় কাজ করতে এসে গলিত লাস হয়ে ফিরলো ।সস্তা শ্রম লাশের মিছিল,আর কান্নার আজাহারি ,হাজারও মায়ের বুক খালি আর দেখতে চাই না।আমার ভাতিজিটা আর ফিরে আসবেনা।আমরা বিচারের অপেক্ষায় ….

Updated: May 4, 2026 — 6:07 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018