এক ছেলেকে নিয়ে, পুড়ে যাওয়া ঘরের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সুলতানা বেগম। সুলতানা বেগমের স্বামী কাজ করেন কোনাবাড়ীর স্থানীয় একটি গার্মেন্টস এ। একজনের আয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে না পারার কারণে সুলতানা বেগম গার্মেন্টস এ কাজ করার জন্য, কোনাবাড়ী বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত বিজিএমই- ট্রেইনিং সেন্টারে, পোশাক শিল্পের জন্য কাজ শিখছেন। ২ বছর ধরে তারা এই পুড়ে যাওয়া ঘরটিতে মাসিক ১৮০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বসবাস করছিলেন। খেয়ে না খেয়ে মাসিক ১২,০০০ টাকা আয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনের সংসার চালিয়ে ৮০,০০০ টাকা ব্র্যাক এনজিওতে সঞ্চয়ও করেছিলেন তারা। গ্রামের বাড়ী ময়মনসিংহ একটি জমি কেনার স্বপ্ন পূরণের জন্য, ০২দিন আগে সেই ব্র্যাক এনজিও থেকে ৮০,০০০ টাকা উত্তোলন করে বিছানার তোশকের ভিতর টাকাগুলো রেখেছিলেন। আগুনে সেই তোশকসহ ঘরের সবকিছুই পুড়ে যায়। ঘরের মধ্য পুড়ে গেছে তাদের স্বপ্নও।

– নিজের সব হারিয়ে আহাজারি করছেন এক নারী শ্রমিক।
২০.১২.২০২০ইং তারিখে সকাল ১১টার দিকে, কোনাবাড়ী ৯নং ওয়ার্ডে অবস্থিত তুষকা গার্মেন্টস এর পিছন দিক দিয়ে যাওয়া গ্যাস লাইনে ত্রুটি থাকার কারণে ১২টি টিনের ঘর (স্থানীয় ভাষায় কলোনী বলা হয়) আগুন লেগে পুড়ে যায়। কলোনীর সবাই শ্রমজীবী হিসেবে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় এবং দিনমজুর হিসেবে নিজের কাজে বাহিরে ছিলেন। আগুন লাগার কথা জানতে পেরে তারা এসে দেখেন কলোনীতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে।

– নিজের ৮০,০০০ টাকা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় আহাজারি
টেলিভিশন, মোবাইল, টাকা-পয়সা, স্বর্ন অলংকার, আসবাবপত্র সহ অনেকের শেষ স্মৃতিটকুও কেড়ে নিয়েছে এই আগুনের লেলিহান শিখা। শুধু পরনের কাপড় ছাড়া ঘরের কোন কিছুই রক্ষা পায়নি। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অনেকেই আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ হাতড়ে পুরনো স্মৃতি খোঁজার চেষ্টা করছেন।

আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে নিজের শেষ স্মৃতিটুকু রক্ষা করতে না পেরে হতাশ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন একজন শ্রমিক।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দাদের মারফত জানা যায়- কলোনীতে রান্না করার জন্য সরবরাহকৃত গ্যাস লাইনটি ছিল অবৈধ এবং গ্যাস লাইনে ত্রুটি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। বারবার বাড়ীওয়ালাকে জানানোর পরেও বাড়ীওয়ালার পক্ষ থেকে কোন প্রকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এসব মুনাফালোভী বাড়ীওয়ালা এবং সরকারি সংস্থার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অবহেলার কারনে, এভাবে সুলতানাদের মতো আরও নাম না জানা নিরীহ মানুষদের স্বপ্ন আগুনের লেলিহান শিখায় ছাই হয়ে পানিতে ভেসে যায়।

– BCWS এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার ছবি।
আগুন লাগার তথ্য জানার পরপরই কোনাবাড়ী BCWS, হেড অফিসের পরামর্শক্রমে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে- ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস এবং ফায়ার সার্ভিস এর সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করে, বাড়ীওয়ালার সাথে কথা বলে, পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর পাশেই ০৩টি রুমে অস্থায়ী ভাবে রাত্রিযাপন ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করা হয়।
৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে কোন প্রকার ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকেরা কোনাবাড়ী- BCWS এর সাথে যোগাযোগ করে সাহায্য কামনা করেন।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে কোনাবাড়ী- BCWS, হেড অফিসের সাথে যোগাযোগ করে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তার জন্য লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, BCWS আবেদনে সাড়া দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের ২০টি পরিবারের তালিকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকেন।
২০টি পরিবারের তালিকা অনুযায়ী ০৮.০১.২০২১ইং তারিখে কোনাবাড়ী- BCWS সেন্টারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদেরকে:
-চাল ২০ কেজি, ডাল ২ কেজি, আটা ২ কেজি, তেল ৩ কেজি, আলু ৩ কেজি, পিয়াজ ২ কেজি, রসুন ১ কেজি, লবণ ১ কেজি, সাবান ২পিছ, হুইল পাউডার ১ কেজি, চিনি ১ কেজি, মাস্ক ১০পিছ, স্যানিটাইজার সহ সর্বমোট ৩৫ কেজি করে প্রতিটি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়।
যারা ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন তারা সকলেই BCWS কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
নওশাদ রায়হান
বিসিডাব্লিউএস- কোনাবাড়ী।




Users Today : 265
Users Yesterday : 279
This Month : 6640
This Year : 39533
Total Users : 120031
Views Today : 439
Total views : 433129
Who's Online : 1