সহকর্মীর বাসায় গেলে দেখতে পাই , ছোট ছেলেটা ওর মাকে জিজ্ঞেস করলো মা, বাবা কি মাছ কিনে নাই। শুধু ডাল দিয়ে ভাত খাবো।মজা লাগে না।
একজনের উপার্জন দিয়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে সংসার চালানো যায় না।বাচার মতো মজুরী চাই।
সহকর্মীর বাসায় গেলে দেখতে পাই , ছোট ছেলেটা ওর মাকে জিজ্ঞেস করলো মা, বাবা কি মাছ কিনে নাই। শুধু ডাল দিয়ে ভাত খাবো।মজা লাগে না।
একজনের উপার্জন দিয়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে সংসার চালানো যায় না।বাচার মতো মজুরী চাই।


নাম: জহুরা বেগম, পদবী কোয়ালিটি
আমাদের অভাবের সংসার, পরিবারকে সাহায্য করার জন্য ঢাকায় আসি চাকুরীর খোঁজে। আমি একটা ওয়াশিং ফ্যাক্টরীতে প্রায় ৩ বছর যাবত কাজ করছি। একই কারখানার একজন ছেলের সাথে পরিচয় হয় তারপর আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়, আমরা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করি।

আমরা একসাথে সংসার করতে থাকি আমাদের দিন ভালই যাচ্ছিলো একটা সময় আমার পরিবার আমার বিয়ের বিষয়টি জানতে পারে এবং আমার পরিবার তা মেনে নেয়। আমাদের বিয়ের ১০ মাস হওয়ার পর আমার স্বামীর আমাকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি যায়। গ্রামের যাওয়ার পর দেখি আমার স্বামীর আগে থেকেই বউ সন্তান সবই আছে ওখানে যাওয়ার পর শুরু হয় আমার উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। আমার স্বামী এবং তার পরিবার আমাকে চাপ দিতে থাকে আমি যেন ডিভোর্স পেপারে সাইন করি আমি অস্বীকৃতি জানালে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয় বলে আমাকে মেরে গুম করে ফেলবে আমার পরিবারের কেউ আমার কোন খোঁজ পাবে এবং মারধর করতো একপর্যায়ে আমি ডিভোর্স পেপারে সাইন করতে বাধ্য হয় তারপর আমার দুলাভাইকে ডেকে আমাকে আমার গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। আমি আবার ঢাকায় চলে আসি কারন আমাকে কর্ম করে খেতে হবে।কারখানায় আসার পর আমার সহকর্মীরা বিষয়টি কিভাবে যেন জেনে যায় এবং আমাকে নিয়ে খারাপ খারাপ কথা রটাতে থাকে, বাথরুমের দেওয়ালে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন বাজে বাজে মন্তব্য লিখে রাখে যা শুনে কারখানার কতৃপক্ষ আমাকে ডেকে নিয়ে বলে আমাকে চাকুরীতে রাখা যাবেনা কারন আমার জন্য নাকি কারখানার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে একপর্যায়ে আমাকে কারখানা থেকে বের করে দেয়। আমি এই স্বামর জন্য সংসার চাকুরী সবই হারাইলাম।
আমি আখি। প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভেঙ্গে সেলাই মেশিনে বসি, সারা দিন কাজ করি- অন্যের পোশাক বানাই, নিজের ভবিষ্যতটা ঠিক গড়তে পারি না। আগামীকাল মে দিবস, লাল পতাকার দিন। সবার ছুটি, অথচ আমরা যাবো কারখানায়। সবাই শ্রমিকের অধিকার নিয়ে কথা বলবে, মিছিল হবে, ব্যানার উড়বে- কিন্তু আমি, আমরা যারা সেলাই মেশিনে প্রতিদিন জীবনকে আটকে রেখেছি, আমাদের কন্ঠ কি কেউ শুনছে?
আমার চাওয়া বেশি না-
মে দিবস হোক আমাদের কথা বলার দিন, শুধু শোনার দিন নয়।