”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

Category: অন্যান্য

একজন গার্মেস্টস শ্রমিক হয়ে এই রাষ্ট্রের কাছে আমার প্রশ্ন ?

আমরা বাংলাদেশী গার্মেস্টস শ্রমিক

আর বাংলাদেশের উন্নয়নের সবথেকে বেশি অবদান আমাদের

আর সবথেকে বেশি অবদান আমাদের বলেই হয়তো

আমাদের দেশে

চাল ৮০ টাকা কেজি

ডাল ১২০ বা ১৫০ টাকা কেজি

তেল দুইশো টাকা কেজি

পেয়াজ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০টাকা কেজি হয়

ডাক্তারের ভিজিট ৭০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা

বাড়ি ভাড়া ৩০০০ টাকা শুরু করে ৮ নয় হাজার

আর বাকি গুলো না হয় নাই বললাম

এতে বুঝতেই পারছেন বাংলাদেশের সবকিছুরই খুব দাম

তবে হ্যাঁ বাংলাদেশে একটা জিনিসই শুধু সস্তা

আর সেইটা হলো গার্মেস্টস শ্রমিকদের শ্রম

আর সেই জন্যই একজন গার্মেস্টস শ্রমিকের একদিনের হাজিরা ২৬৬ টাকা

এখন বলেন আমরা ২৬৬ টাকা হাজিরার শ্রমিক হয়ে

এতো দামি দামি জিনিস কিনে খাবো কি করে

এতো দামি চিকিৎসা করবো কি করে

একজন গার্মেস্টস শ্রমিক হয়ে এই রাষ্ট্রের কাছে আমার প্রশ্ন

আমরা গার্মেস্টস শ্রমিকরা জানতে চাই

চাল ডাল তেলের দাম যদি ৬০ থেকে ২০০ টাকা হতে পারে তাহলে আমাদের গার্মেস্টস শ্রমিক দের বেতন কেন নুন্যতম ২২ হাজার টাকা হবে না

Updated: March 25, 2022 — 2:59 pm

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে

সবথেকে বেশি মিছ করবো এই আপাকে

কারণ ২০ বছর বয়সেও জানতাম না নারী দিবস কি ৮ মার্চ দিনটিকে কেন নারী দিবস বলা হয়েছে

এই আপা আমাকে শিখিয়ে ছিলো নারী দিবস কি ৮ মার্চ দিনটিকে কেন নারী দিবস বলা হয়েছে

আর তাই নারী দিবস যতদিন পালিত হবে আপনিও আমার মনে স্পেশাল ভাবে থেকে যাবেন

বছরে কোনদিনও যদি আপনার কথা আমার মনে না পড়ে এই নারী দিবসই আপনার কথা আমাকে মনে করিয়ে দিবে

ধন্যবাদ আপা

আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বিশ্বের সকল নারীদের প্রতি রইলো অগ্রীম শুভেচ্ছা

ও অফুরন্ত ভালবাসা

Updated: March 25, 2022 — 2:58 pm

গার্মেস্টস শ্রমিকদের বাস্তব জীবনের কিছু কথা

শুনুন তাহলে আমাদের মতো বাংলাদেশী গার্মেস্টস শ্রমিকদের বাস্তব জীবনের কিছু কথা

ইউরোপ আমেরিকা চাইলে আমাদের বাংলাদেশের অনেক ভালো পোশাক তারা তৈরি করতে পারে

কিন্তু তারা পোশাক ছাড়া অন্যন্য পোডাক্ট তৈরি করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে কিন্তু পোশাক করে না

কারণ বাংলাদেশে আমার মতো একটা পোশাক শ্রমিকের বেতন সর্বোচ্চ ৮ থেকে সাড়ে নয় হাজার

তার পরেও আমাকে সেই ভোর বেলা উঠতে হয়

কিসের কি রান্না করি না করি আবার পিপড়াদের মতো দল বেঁধে কাজে যায়

সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোবটের মতো কাজ করতে হয়

তবুও বাঁচার মতো মজুরী পায় না

শ্রক্রবার বাদে প্রতিদিনই ডিউটি করি আমরা

বাড়তি কোন ছুটিও পায় না

দুই ঈদে যাও ছুটি পাই লোকাল বাসে কিংবা ট্রেনের ছাদে আমাদের বাড়ি যেতে হয়

তাও আবার সবার পরে যাই আবার আগে আসতে হয়

আমরা গার্মেস্টস শ্রমিকেরা বাচ্চা জন্ম দিতে ভয় পাই

কারণ আমরা স্বামী স্ত্রী সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজে থাকি আমাদের বাচ্চা দেখবে কে

আর যদিও আমাদের বাচ্চা হয়

দুধ ছাড়ার আগেই পাঠিয়ে দিই নানী কিংবা দাদীর কাছে

আর এজন্যই বিদেশিরা আসে আমাদের বাংলাদেশে কারণ তারা জানে বাংলাদেশের শ্রমেরদাম কম বাংলাদেশী শ্রমিকদের জীবনের মূল্য কম

আর এই জন্যই এই কাজ গুলো তারা দেশের বাইরে করায় না কারণ সেখানে প্রডাকশ করতে গেলে তাদের অনেক বেশি টাকা খরচ হবে

যেইটা বাংলাদেশে হয় না

আর এই জন্যই তারা বাংলাদেশি শ্রমিকদের শ্রম টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যায়

বিদেশিরা যখন আসে আমাদের কারখানাতে

তখন তাদের পোশাকের দিকে তাকিয়ে ভাবি

ওই পোশাকের প্রত্যেকটা সুতোয় সেলাই করে দিই আমাদের গার্মেস্টস শ্রমিকের জীবন

Updated: March 25, 2022 — 2:58 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018