আমি নুসরাত জাহান খাদিজা।সহজ ভাবে বলতে গেলে গামের্ন্টস এ চাকুরী করি,কিন্তু খুব বলতে ইচ্ছা করে আমি এবার ইন্টার পরীক্ষার্থী।জন্মের পর থেকে জুয়ারী বাবা আর গামের্ন্টস্ এ চাকুরী করা মায়ের অভাবের সংসারে বড় হওয়া।
প্রতিনিয়ত চোখের সামনে মাকে টাকার জন্য বাবার কাছে মার খাওয়া দেখে বড় হওয়া।কখনও পড়ালেখোর কথা চিন্তাও করতাম না ।কিন্তু স্কুলে যেতে ইচ্ছা করতো ,তবে ভয়ে বলতে পারতাম না। মা যেন আমার মনকে পড়তে পেড়েছিলো।শুরু হলো আরেক যোদ্ধ।প্রতিমাসে বাবার কাছ হতে টাকা লুকিয়ে মা আমার পড়ার খরচ চালাতেন।আর মা মার খেতেন টাকা লুকানোর কারনে।
একটা সময় এসে নিজেই হাল ছেড়ে দিলাম ,পাশাপাশি পড়ার খরচ ও সংসার খরচ চালানো যাচ্ছিলো না।তাই বাধ্য হয়েই কতদিন সাব কন্ট্রাকে কাজ করলাম আর মন হলো ৮ এর জিএসসি টা দেই।ভোটার আইডি ছাড়া তো কোথাও নিবেও না।সাব-কন্ট্রাকে কাজ করে ৬ মাস কাজ করি ফাকে ফাকে পড়াশুনা করি। একটা পর্যায়ে ভালো রেজাল্ট আসে। আবার মনে হলো এসএসসি টা দেই ।খুব ইচ্ছা করে মানুষের সেবা করি। নার্সদের খুব ভালো লাগে।
সিদ্ধান্ত নিলাম যে ভাবেই হোক নার্স হবো তাই সাইন্স নিলাম।অনেক খরচ সাইন্সে। সাব -কন্ট্রাকে কাজ করে সাইন্সের খরচ চালাতে পারবো না। মা অনেক রিকোয়েস্ট করে তার কারখানাতেই জন্ম নিবন্ধন দিয়ে চাকুরী নিয়ে দিলো। বসেরাও সুযোগ দিলো,কিন্তু কপাল খারাপ….বাবাা এবার পই পই করে পে স্লিপ ধরে বেতন নিয়ে যায়।শুরু হয় মা-মেয়েকে একসাথে টাকার জন্য অত্যাচার । বহুবার বাসা ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু তার হাত থেকে রক্ষা পাই নি। এবার এসে লাগলো আমাকে আর পড়ালেখা করতে দিবে না।আমি দমে যাবার মেয়ে নই। এর মাঝেই সাইন্স হতে এসএসসি তে 4.73 পাই।
স্বপ্নেরে পথে আরেক ধাপ এগিয়ে। এখন আর পিছন ফেরা যাবে না। কারখানাতে বললে ,বলে তুমি কলজে ভর্তি হও তোমাকে সপ্তাহে ১ দিন কলেজ করার আনুমতি দেয়া হবে। কলেজে বলার পর তারাও বুঝতে পারে এবং আমাকে সুযোগ দেয়।আমি এখন আলাদা রুম নিয়ে থাকি আমার স্বপ্ন পূরনের জন্য। এবার টেষ্ট পরীক্ষা দিছি,কারখানা ছুটি দিছে তবে বেতন কাটছে।তাতেও আমি খুশি।সবাই আমার জন্য দোয় করবেন ।আমি যেন নার্স হয়ে সবার সেবা করতে পারি……..





Users Today : 122
Users Yesterday : 283
This Month : 1011
This Year : 23805
Total Users : 104303
Views Today : 397
Total views : 400706
Who's Online : 1