
একবিংশ শতাব্দীর পুরোটা জুড়েই চলছে প্রযুক্তির জয়জয়কার। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজে প্রযুক্তির কাছে মানুষ এখন দায়বদ্ধ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গার্মেন্টেসে কর্মরত পিছিয়ে পড়া শ্রমিকেরাও এখন দিনদিন প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায় গার্মেন্টেসে কর্মরত প্রায় প্রতিটি শ্রমিক/ শ্রমিকের পরিবারের নিকট ছোট বৈদ্যুতিক ডিভাইস (স্মার্ট ফোন) রয়েছে।
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে/ সময়ের প্রয়োজনের খাতিরে/ বিনোদনের চাহিদা মেটাতে শ্রমিকেরা ছোট ডিভাইসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া এ্যাপ্স ব্যবহার করে থাকে যেমনঃ ফেসবুক, ইমু, ইমেল, ইউটিউব, ভিডিও এডিটর এ্যাপ্স, টিকটক, ম্যাসেঞ্জার, লাইকী ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু শ্রমিকেরা সোশ্যাল মিডিয়ার ভালো এবং মন্দ দিকগুলা না জানার কারণে প্রতিনিয়ত নিম্ন লিখিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেনঃ
- সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর ভুয়া/ ফেক আইডি ব্যবহারকারীর কারণে অধিকাংশ নারী শ্রমিকেরা প্রতারণার স্বীকার হওয়া
- একে অপরের সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে উঠছে ফলে পরবর্তীতে সাজানো মানুষটির সঙ্গে বাস্তবতার মিল খুঁজে না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ হওয়া
- বিভিন্ন ধরনের ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করা এবং প্রচার করা
- অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য এবং মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া
- ফেসবুক আইডি /ইমু হ্যাক হয়ে যাওয়া
- স্মার্ট ফোন ব্যবহারে দক্ষতা না থাকার ফলে অন্যজনের সাহায্য নেওয়া (অধিকাংশ সময় টাকা দিয়ে সমস্যা সমাধান করতে হয়)
- অন্যজনের সাহায্য নিয়ে নিজের স্মার্ট ফোন ব্যবহারের ফলে অজান্তেই ব্যক্তিকে গোপন এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তথ্য দিয়ে দেওয়া
- নিজের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস না থাকা/ না বুঝার কারণে অন্যজনের ডকুমেন্টস দিয়ে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এ্যাকাউন্ট খোলা
- না বুঝে বিভিন্ন ধরনের বিপদজনক তথ্য শেয়ার করা
- সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত জনের সাথে সহজেই নিজের একান্ত বিষয় নিয়ে আলোচন করা
- একটু বাড়তি আয়ের আশায় টাকা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের আইডি খুলে প্রতারিত হওয়া (রিং আইডি, সহজ লাইফ, জুয়া খেলার সাইট ইত্যাদি)
- স্বল্প মূল্যের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে বিভিন্ন ধরনের ইকমার্স সাইটে অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসের অর্ডার করা এবং প্রতারণার স্বীকার হওয়া
- না বুঝে বিভিন্ন অশ্লীল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা
- বিভিন্ন ধরনের ভিডিও বানিয়ে নিজেদের মূল্যবান সময় অপচয় করা
- বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে নিজের সময় নষ্ট করা
আমরা সবাই জানি, বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো বেশ জনপ্রিয়।বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর একটা বিপ্লব চলছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলোর যাত্রা অনেক আগে থেকে শুরু হলেও মূলত ২০১০ সালে পৃথিবীজুড়ে ভালোভাবে আত্মপ্রকাশ করে। যেকোন প্রযুক্তি রাতারাতি আবিষ্কৃত হয় নি। আসলে শত শত বছরের বিভিন্ন কনসেপ্ট থেকেই সেগুলো আবিষ্কার হয়েছে। তেমনি করে সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলোর আবিষ্কারের ক্ষেত্রে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ইন্টারনেট আবিষ্কারের পর সোশ্যাল মিডিয়ার মুল ধারণা মানুষের মধ্যে আসে। প্রাচীনযুগে মানুষ চিঠিপত্র আদান প্রদানের মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান করতো। তবে এক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেত। মূলত চিঠিপত্র আদান প্রদানের এই ধ্যানধারণা থেকেই আজকের এই আধুনিক সোশ্যাল মিডিয়ার আবির্ভাব। সোশ্যাল মিডিয়ার মুল বৈশিষ্টই হল সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থা !
শুধু গার্মেন্টস শ্রমিকেরা নয় দিনের-পর-দিন ধরে আমরা সকলেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যাচ্ছি এবং ব্যবহারের হার দিনকেদিন বেড়েই চলছে। ব্যক্তিগত আচরণ থেকে শুরু করে পেশাগত কাজে সবকিছুতেই ইন্টারনেটকে জড়াতে হয় যেখানে অভিনেতা স্বয়ং আমি, আপনি এবং আমরা।
এ সমস্যার সমাধান একটাই, আমাদের বদলাতে হবে, শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে বদলে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে, বাংলাদেশ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী আমাদেরকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আরও সচেতন হতে হবে, শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে তথ্য প্রযুক্তির উপর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে, খুব কম সময় নিয়ে নিজেদেরকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জড়াতে হবে। কেবল আমাদের ব্যবহারের আধিক্য কমে গেলেই প্রযুক্তিবিদরা বাধ্য হয়ে তাদের কলাকৌশল সংস্কার করে আমাদের প্রাইভেসি বজায় রেখে টেকনোলজি ঢেলে সাজাবে।
নওশাদ রায়হান
বিসিডব্লিউএস- কোনাবাড়ী



Users Today : 200
Users Yesterday : 240
This Month : 2073
This Year : 50803
Total Users : 131301
Views Today : 370
Total views : 473203
Who's Online : 1
সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শ্রমিক ভাই বোনদের দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন।