”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

Month: April 2025

স্বপ্ন নয়, ডাস্টবিনের পাশে শৈশব।

আপনারা কি জানেন, আমরা হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী যেসব এলাকায় থাকি সেখানকার শিশুরা প্রতিদিন স্বাস্থ্যঝুকির মধ্যে বাস করছে?

বাসার পাশের এই বর্জ্য খোলা জায়গায় পড়ে থাকে- রাস্তার পাশে, বাসার পেছনে,এমনকি ড্রেনের মুখ আটকে দিয়ে পানি জমিয়ে ফেলে। এই যে বর্ষা চলে আসল এই অবস্থায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বাসিন্দারা অভিযোগ করলেও কোনো সাড়া মেলে না সময়মত।

ময়লা একবার পড়ে থাকলে ৪-৫ দিন কেউ নেয়না। গন্ধে জানালা বন্ধ করে রাখি, কিন্তু ছোট বাচ্চা তো বাইরে যাইতেই চায়। আমি রোজ চিন্তায় থাকি, কখন আবার ও অসুস্থ হয়।

Updated: April 17, 2025 — 2:30 pm

অসহায় এক নারী শ্রমিকের গল্প:

লাইজুর ছোট বেলায় বাবা মা মারা যায় ভাইয়ের সংসারে বেড়ে উঠা ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। তারপর থেকে শুরু হয় স্বামীর সংসার লাইজুর পরিবার জানতনা যে ছেলে কাছে তাদের মেয়েকে পাঠানো হয়েছে সে একজন মাদকাসক্ত।
মাদকাসক্ত স্বামীর সংসারে গিয়ে শুরু হয় লাইজুর জীবনের যুদ্ধ। নেশা করে এসে লাইজুর স্বামী লাইজুকে প্রায়ই মারধর,অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতো। লাইজু চুপ করে মুখ বুজে সব সহ্য করতো কারন তা বাবা মা নাই ভাইয়ে সংসারে ফিরে গিয়ে ভাইয়ের বুঝা হতে চাইনাই।
এক এক করে লাইজু দুই সন্তানের জননী হয় কিন্তু যতদিন যাচ্ছে লাইজুর স্বামী অত্যাচার ততই চলছে তারমধ্যে লাইজু আবারও গর্ভবতী হয় তখন সে স্বামীর অত্যচার সহ্য করতে না পেরে ভাইয়ের সংসারে ফিরে যায়। লাইজুনএখন তিন সন্তানের জননী। ২ বছর পর্যন্ত লাইজু তার তিন সন্তান নিয়ে ভাইয়ের সংসারে থাকে। কিন্তু লাইজু ভাবে সন্তানদের নিয়ে সে আর কতদিন ভাইয়ের সংসারে থাকবে তাকে একটা কিছু করতে হবে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য । যে ভাবা সেই কাজ লাইজু তিন সন্তান নিয়ে ঢাকায় আসে চাকুরীর খোঁজে। আশুলিয়া এরিয়াতে হেলপার পদে একটি সাব কন্টাক কারখানায় কাজ নেয় লাইজু। তারমধ্যে দুই পরিবারের সিদ্বান্তে লাইজু স্বামীকে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়। লাইজু কাজ করে পোশাক করাখানায় আর সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে তারই ১০ বছরের কন্যা সন্তানের উপর। ভাইবোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেনীর পর তার স্কুল জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তিন মাস পর রিহ্যাব থেকে লাইজুর স্বামীকে আনা হয় এবং সে লাইজু সংসারে ফিরে আসে। লাইজুর স্বামী সারাদিন বাসায় থাকে আর লাইজু কর্মক্ষেত্রে যুদ্ধ করে। লাইজু প্রতিদিন কাজ থেকে বাসায় ফিরে শুনে তার স্বামী সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে মারধর করে।
লাইজুর বক্তব্য কর্মক্ষেত্রেও যুদ্ধ বাসায়ও যুদ্ধ এই জীবন আর ভাল লাগেনা মাঝে মাঝে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে কিন্তু সন্তানদের কথা চিন্তা করে আর কিছু করতে পারিনা।

Updated: April 10, 2025 — 2:31 pm

মুহুুর্তে সব ‍কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেলো…

আমাদের নাগির্গ্রামস আপা,গারমেন্টস এ চাকরী করি বলে বহু বছরের চেনা জানা। গ্রাম থেকে এসে অভাবের তাড়নায় গামের্ন্টন্সে চাকরি নেয়।স্বামীর সাথে বুনিবুনিয়াত নেই,সন্তানদের রেখে দূরে আসা কতটা কষ্টের সে যন্ত্রনা বুজানো যাবে না ।মনে ছিলো আনন্দ গামের্ন্টস ছুটির পর বাসায় ফিরছিলাম ,ভাবছিলাম-মা-বাবা ,সন্তানদের জন্যে ঈদের কেনাকাটা করেছিলাম তা নিয়ে সবার সাথে ঈদে আনন্দ করবো।কিন্তু বাসায় ফিরে দেখি আগুনে পুড়ে ছাই…পরনের কাপড়টা ছাড়া কিছুই যে রইলো না অবশিষ্ট। ছোট ছোট স্বপ্ন ছিলো ,প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এনআইডিকার্ড,ঘরে ছিলো ৩০০০০ টাকা ,কিছুই রইলো না।বেচে আছি জিন্দা লাস হয়ে।

Updated: April 9, 2025 — 4:00 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018