”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

Month: May 2025

সাইলেন্ট ডিভোর্স: বাংলাদেশি নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিঃশব্দ যুদ্ধ

গার্মেন্টস কারখানার নারী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন জীবিকার সন্ধানে। তাদের জীবনের সাধারণ দৃশ্য হলো—সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, এরপর ব্যস্ত নগরে ছোট একটি ঘরে ফেরা। অনেকেই স্বামী-সন্তান ছাড়াই শহরে থাকেন। কিছুক্ষেত্রে স্বামী গ্রামে থাকে, বা সম্পর্ক এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা আর একে অপরের জীবনে নেই—তবে ‘আইনিভাবেতারা এখনও স্বামীস্ত্রী।

কারণগুলো কী?

  • যখন আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠেন, তখন অনেকেই আর সহিংস /অবহেলাপূর্ণ সম্পর্কে থাকতে চান না, তারা সম্পর্ক থেকে মানসিকভাবে বেরিয়ে আসেন।
  • বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বামীরা নারীর আয়কে মেনে নিতে পারেন না অথবা কেউ কেউ নারীর অর্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাদের প্রতি দায়িত্বহীন আচরণ করতে থাকেন। এতে নারী নিজেই সিদ্ধান্ত নেন সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার।
  • অনেক নারী শিশুদের সুরক্ষার জন্য বিবাহিত অবস্থায় থেকেও স্বামীকে এড়িয়ে চলেন, যাতে সন্তানের পরিচয়ে কোনো সমস্যা না হয়।
  • বিবাহবিচ্ছেদ মানে সমাজে এক ধরনের “কলঙ্ক” হিসেবে দেখা হয়। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে নারী অনেক সময় ‘চুপিচুপি’ আলাদা থাকার পথ বেছে নেন।

এর প্রভাব চ্যালেঞ্জ

  • এমন সম্পর্ক নারীকে মানসিকভাবে একা করে দেয়। কোনো সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া একা সন্তান পালন, কাজ, সংসার চালানো খুব কঠিন।
  • স্বামীর অনুপস্থিতিতে বা সম্পর্কহীনতায় নারীকে অনেক সময় সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
  • ভবিষ্যতে কোনো আইনগত সুবিধা নিতে গেলে বিবাহিত অবস্থা অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি করে—যেমন জমিজমা, সন্তানের অভিভাবকত্ব, উত্তরাধিকার ইত্যাদি।

সমাধানের পথ

  • সমাজে ‘বিচ্ছেদ’ শব্দটি নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি। প্রতিটি নারীকে তার সিদ্ধান্তের জন্য সম্মান জানানো উচিত।
  • বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে নারী শ্রমিকদের জন্য সহজ ও বিনামূল্যে আইন সহায়তা প্রয়োজন।
  • গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থাকা জরুরি। অনেকেই নিরবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যার সমাধান জরুরি।
  • যারা একা থেকে সন্তান লালন-পালন করছেন, কাজ করছেন—তাদের জন্য সম্মানজনক সামাজিক স্বীকৃতি গড়ে তোলা দরকার।

শেষ কথা

সাইলেন্ট ডিভোর্স কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বাস্তবতা, যা আমাদের সমাজের কাঠামো এবং দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

রোকসানা ইয়াছমিন শিমুল

সেন্টার কো -অর্ডিনেটর

বড়বাড়ি-গাজীপুর

Updated: May 28, 2025 — 5:37 pm

কম দামের বাসায় যে কষ্ট….

সহকর্মীর বাসায় গিয়ে দেখতে পেলাম.কত ধরনের কষ্ট… একটু খরচ কমাতে ভুগতে হয় অনেক ধরনের সমস্যা,আশেপাশে নোরাং পানি,গ্যাসের সংযোগ নাই,খড়ির চুলার রান্না,কাপড় শুকানো,এর মধ্যে ঘর থেকে পড়ে পানি।

আমরা চাই কোম্পানী থেকে কোয়াটার এর ব্যাবস্থা করা হোক।

Updated: May 22, 2025 — 11:19 am

এই শহরে আমাদের কোনো ঘর নেই

সেদিন সহকর্মী লাকীর বাসায় গেছিলাম। গিয়ে দেখি ওর বাসা পানির ওপরে ভাসে, টিনের চাল, গরমে টিন তেতে উঠে। তবুও বাসার ভেতরে সবাই মিলে হাসিখুশি, পাশে একজন আচার রোদে দিছে। খুব ভালো লাগছিল।
কিন্তু ভাবলাম, একটা ঝড়েই যদি উড়ে যায় এই ঘর? তখন কোথায় যাবে ওরা? নতুন বাসায় উঠার মতো টাকা তো আমাদের থাকে না। বেতনেই চলা মুশকিল।
আমাদের জীবনটাও যেন এই ভাসমান ঘরের মতো — কখন কী হয়, ঠিক নেই। তবুও আমরা একে-অপরকে ধরে রাখি, বাঁচার চেষ্টা করি।

Updated: May 22, 2025 — 10:13 am
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018