”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

রোবটের মত জীবন।

আমার নাম সাহিদা বেগম। আমি আগামী এ্যাপারেলস লিঃ এর একজন অপারেটর। প্রতিনিয়ত নাইট ডিউটি করেতে হয় রাত ১২টা পর্যন্ত এবং মাসে ০৩টি শুক্রবার ওভারটাইম অথবা জেনারেল করতে হয়। এত পরিমান ডিউটি করার কারনে রাতে ঠিকমত ঘুম হয় না, সকালে উঠে বিছানাটা উঠাতে সময় পাইনা। শীত আসার পর থেকে বিছানা উঠানো হয়না, ঠিকমত রান্না করে খেতে পারি না, শুধু ভর্তা আর ডাল-ভাত কোনো রকম রান্না করে খাই। ঠিকমত গোসল না করার কারনে শরিরে এলার্জি জনিত সমস্যা হয়েছে। আমার স্বামী নেই, নিজেকেই সংসার চালাতে হয়। ০১টি মেয়ে আছে মায়ের কাছে থাকে, সেইখানে মেয়ের পড়ালেখার খরচ দিতে হয় এবং মায়ের সমস্ত খরচ আমার বহন করতে হয়। আমার নিজের খরচ, ঘর ভাড়া, খাওয়া খরচ সহ সব মিলিয়ে এই চাকরির উপর নির্ভরশীল, তাই কষ্ট করে হলেও চাকরি করতে হয়। কিছুই করার নেই আমাদের গারমেন্টস শ্রমিকদের জীবনটাই এইরকম। কোন প্রতিবাদ করতে পারি না কারন যদি কেউ প্রতিবাদ করে তাহলে তাকে বলে- ”যদি নাইট ডিউটি করতে না পারো তাহলে চাকরি ছেড়ে চলে যাও”। আবার অনেক শ্রমিকদের প্রতিবাদ করার কারনে বের করে দিয়েছে। জানি না এই রোবটের মত ডিউটি করা কবে শেষ হবে।

Updated: February 15, 2026 — 1:31 pm

ভোট আমার অধিকার…

ভোট দেয়ার জন্য কারখানা চার দিনের ছুটি দিয়েছে ।গ্রামের বাড়িতে যাবো ।রাস্তায় যানজট, গাড়ি নাই,দিতে হচ্ছে 100 টাকার ভাড়া- 500/700 যত টাকা বেশি নিতে পারে।বাস ট্রাক ,গ্যাসের বোতলের গাড়িতে ঝুঁকির মধ্যে যেতে হচ্ছে।এ দিকে গামের্ন্টস এর দেয়া বেতন তুলতে পারি না।1000 হাজার টাকার বেশি লেনদেন হয় না।তাহলে ভোট দিবো কিভাবে ,যাবো কিভাবে।আমরা গামের্ন্টস শ্রমিকরা কি শ্রম আইনের সাথে ভোটার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হবো ??

Updated: February 10, 2026 — 1:08 pm

কারখানাটা গ্রীণ কিন্তু জীবনটা গ্রীণ নয়

অল্প জায়গা ও সীমিত আয়ের মধ্যেই গ্রীন ফ্যাক্টরীতে কাজ করা সুষুমা রানীর প্রতিদিনের জীবন ও সংগ্রাম।

ঘরটি খুবই ছোট। একই জায়গায় রান্না, বিশ্রাম ও ঘুমের ব্যবস্থা। এক পাশে ঝুলছে কাপড়, অন্য পাশে গ্যাসের চুলা ও হাঁড়ি পাতিল। নিরাপত্তা, বাতাস চলাচল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সবকিছুরই ঘাটতি রয়েছে। তবুও এই ঘর তার একমাত্র আশ্রয়। তাদের জন্য ন্যায্য মজুরী ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা এখনও সময়ের দাবি।

Updated: February 10, 2026 — 11:40 am
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018