”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

রিজাইনটাই কি কর্মজীবী মায়েদেরে সমাধানের একমাত্র পথ…..

এই আপা ১০০% রপ্তানীমুখী কারখানায় কাজ করেন গত ৫ বছরের উপরে।গর্ভবতী অবস্থায়ও তাকে কাজ করতে হয়েছে অন্য ১০ জনের মতোই।দারিদ্রতার কথা চিন্তা করেও কঠিন সময়ে চাকুরী ছাড়েন নাই।ডেলিভারীর ছুটিতে গেলে টাকা ও ছুটি ২ টাই দেয়।বাচ্চার বয়স ৪ মাস শেষের দিকে।বাচ্চার নিউমোনিয়া হইছে ,কঠিন সময়ের মাঝ দিয়ে যাচ্ছেন।৬ দিন ধরে এ্যাবছেন্ট করছেন।রিজাইন দিতে গিয়েছিলেন,ওয়েলফেয়ার ম্যাডাম বলছে তুমি যতদিন লাগে ছুটি কাটাও ,পরে এসে জয়েন কইরো।আজকে চূড়ান্তভাবে ই সিদ্ধান্ত নিলেন বাচ্চা ১ বছর না হওয়া পর্যন্ত আর চাকুরী করবেন না।কিন্তু কপালে সেই চিন্তার ভাজ আর নিজে নিজেই আওরাতে লাগলেন …..

  • ডে-কেয়ারের পরিবেশটা যদি ভালো হইতো
  • চোখের সামনে বাচ্চাটাকে দেখতে পারলে তো এত ঘাঢ়ভাবে নিউমোনিয়া হতো না..
  • অফিসের মেডিকেলের ডাক্তাররা যদি ভালো হইতো ,আমার বাচ্চাটার এতো কষ্ট হইতো না
  • ঠিকমতো বুকের দুধ খাওয়াতে পারলে ,ঠান্ডার সমস্যাই হয়তো হইতো না……আমার চাকরীটাও ছাড়তে হইতো না।

কথাটি শুধু এক সাবিনা আপার না,আমার আপনার মতো হাজারো মায়েদের……নরীর ক্ষমতায়নে এটি একটি বড় অন্তরায়।সরকারী -বেসরকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাচ্চা রাখার উপযোগী ডে-কেয়ার সেন্টার বাধ্যতামূলক করা হোক এবংপর্যবেক্ষনের জন্যশক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা হোক

Updated: April 21, 2025 — 3:12 pm

স্বপ্ন নয়, ডাস্টবিনের পাশে শৈশব।

আপনারা কি জানেন, আমরা হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মী যেসব এলাকায় থাকি সেখানকার শিশুরা প্রতিদিন স্বাস্থ্যঝুকির মধ্যে বাস করছে?

বাসার পাশের এই বর্জ্য খোলা জায়গায় পড়ে থাকে- রাস্তার পাশে, বাসার পেছনে,এমনকি ড্রেনের মুখ আটকে দিয়ে পানি জমিয়ে ফেলে। এই যে বর্ষা চলে আসল এই অবস্থায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে। বাসিন্দারা অভিযোগ করলেও কোনো সাড়া মেলে না সময়মত।

ময়লা একবার পড়ে থাকলে ৪-৫ দিন কেউ নেয়না। গন্ধে জানালা বন্ধ করে রাখি, কিন্তু ছোট বাচ্চা তো বাইরে যাইতেই চায়। আমি রোজ চিন্তায় থাকি, কখন আবার ও অসুস্থ হয়।

Updated: April 17, 2025 — 2:30 pm

অসহায় এক নারী শ্রমিকের গল্প:

লাইজুর ছোট বেলায় বাবা মা মারা যায় ভাইয়ের সংসারে বেড়ে উঠা ১৫ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। তারপর থেকে শুরু হয় স্বামীর সংসার লাইজুর পরিবার জানতনা যে ছেলে কাছে তাদের মেয়েকে পাঠানো হয়েছে সে একজন মাদকাসক্ত।
মাদকাসক্ত স্বামীর সংসারে গিয়ে শুরু হয় লাইজুর জীবনের যুদ্ধ। নেশা করে এসে লাইজুর স্বামী লাইজুকে প্রায়ই মারধর,অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করতো। লাইজু চুপ করে মুখ বুজে সব সহ্য করতো কারন তা বাবা মা নাই ভাইয়ে সংসারে ফিরে গিয়ে ভাইয়ের বুঝা হতে চাইনাই।
এক এক করে লাইজু দুই সন্তানের জননী হয় কিন্তু যতদিন যাচ্ছে লাইজুর স্বামী অত্যাচার ততই চলছে তারমধ্যে লাইজু আবারও গর্ভবতী হয় তখন সে স্বামীর অত্যচার সহ্য করতে না পেরে ভাইয়ের সংসারে ফিরে যায়। লাইজুনএখন তিন সন্তানের জননী। ২ বছর পর্যন্ত লাইজু তার তিন সন্তান নিয়ে ভাইয়ের সংসারে থাকে। কিন্তু লাইজু ভাবে সন্তানদের নিয়ে সে আর কতদিন ভাইয়ের সংসারে থাকবে তাকে একটা কিছু করতে হবে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য । যে ভাবা সেই কাজ লাইজু তিন সন্তান নিয়ে ঢাকায় আসে চাকুরীর খোঁজে। আশুলিয়া এরিয়াতে হেলপার পদে একটি সাব কন্টাক কারখানায় কাজ নেয় লাইজু। তারমধ্যে দুই পরিবারের সিদ্বান্তে লাইজু স্বামীকে রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়। লাইজু কাজ করে পোশাক করাখানায় আর সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব পড়ে তারই ১০ বছরের কন্যা সন্তানের উপর। ভাইবোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চতুর্থ শ্রেনীর পর তার স্কুল জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তিন মাস পর রিহ্যাব থেকে লাইজুর স্বামীকে আনা হয় এবং সে লাইজু সংসারে ফিরে আসে। লাইজুর স্বামী সারাদিন বাসায় থাকে আর লাইজু কর্মক্ষেত্রে যুদ্ধ করে। লাইজু প্রতিদিন কাজ থেকে বাসায় ফিরে শুনে তার স্বামী সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে মারধর করে।
লাইজুর বক্তব্য কর্মক্ষেত্রেও যুদ্ধ বাসায়ও যুদ্ধ এই জীবন আর ভাল লাগেনা মাঝে মাঝে আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করে কিন্তু সন্তানদের কথা চিন্তা করে আর কিছু করতে পারিনা।

Updated: April 10, 2025 — 2:31 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018