”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

Month: June 2025

একটু সুখ চাইলে চাকরি যায়

বৃষ্টির শব্দে আজ ভোরে ঘুম ভাঙতেই রোজিনার মনে হল—এই একদিন যদি আমার হতো! গার্মেন্টস না গিয়ে ছেলেটাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকতাম, স্বামীর সাথে একটু কথা বলতাম। দুপুরে গরম খিচুড়ি, ডিম ভাজা, আর বেগুন ভাজা—বড় সাধারণ একটা স্বপ্ন, কিন্তু তাও যেন আকাশের চাঁদ।

চাল আছে এক মুঠো, ডিম কিনতে গেলে বাজারে তাকাতে ভয় লাগে। এতটুকু খরচ করলেই মাসের হিসাব উল্টে যায়।

ঘরের চালে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে, আর তার মতোই পড়ে সংসারের চিন্তা। ভাঙা টিনের ফাঁক দিয়ে পানি এসে বিছানার এক কোণ ভিজিয়ে দেয়, ঘরের কোণায় পচা গন্ধ, ভেজা মেঝেতে হাঁটা দায়। রান্নাঘর তো নেই, শুধু বাড়ির একপাশে ইটের ওপর খোলা জায়গায় রাখা গ্যাসের চুলা। বৃষ্টি নামলেই চুলার চারপাশে বাতাসের তুফানে বারবার আগুন নেভে যায়। গ্যাস লাইনের চাপও কম, অনেক সময় আগুন জ্বলেই বন্ধ হয়ে যায়, রান্না মাঝপথে থেমে যায়।

আর ছুটি? ছুটি চাই মানেই গালিগালাজ, “তোর কাজের দরকার নাই” বলা, বোনাস কেটে নেওয়ার ভয়, ছাঁটাইয়ের হুমকি। কেউ ভাবে না, এই মেয়েটারও মন আছে, ক্লান্তি আছে, একটু বসে নিঃশ্বাস নেওয়ার ইচ্ছা আছে।

বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি পড়ে, রোজিনা চুপচাপ কাপড় পরতে থাকেন, কারন তিনি জানেন তার  একদিন আসবে না— গরিবের ইচ্ছেগুলো শুধু ঘরে না, মনে জমে থেকে শুকিয়ে যায়।

Updated: June 27, 2025 — 12:32 pm

ছেঁড়া শাড়ির কাথার ভাজে লুকানো গল্পঃ শ্রমজীবী শমলার দিনলিপি….

আমার পাশের বাসার একজন সহকর্মী বাসায় গিয়ে দেখতে পায় ঘরের দেওয়ালে ছোপ ছোপ দাগ আর পাকার মেঝের ওপরে বসে আছে । হালকা হাসি মুখে , হাতে সাদা মাটা একটা ছেঁড়া কাথা। তিনি একজন গার্মেন্টস নারী শ্রমিক, নাম তার শমলা। বয়স প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি । তার জীবনের কষ্টের কথা শুনে মনে হয় প্রতিটি দিন সে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে। কমিউনিটির ছোট গলির ভেতর দিয়ে প্রতিদিন হাঁটেন কারখানার দিকে – মনে মনে ভাবেন. “ আজকের দিনটা যেন ভালো হয়।”

ছোট একটা ঘরে বড় সপ্ন

শমলার পরিবারে ৭ জন সদস্য । স্বামী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে। স্বামীও কাজ করে গার্মেন্টসে। বড় মেয়েটি গার্মেন্টসে চাকরি করে এবং তার বিয়েও প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। পাত্রটি ছোট একটা জুতার দোকানে কাজ করে। সেই খবর রিনার মুখে এক টুকরো প্রশান্তি আলো এনে দেয়, অনেকদিন পর যেন একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়ে বাসায় থাকে, মায়ের হাতে খুঁটিনাটি কাজ সামলায় আর দুই ভাইয়ের দেখাশুনা করে। গ্রামে বৃদ্ধ শ্বাশুড়িকে ঔষধ কেনার জন্য মাঝেমধ্যে কিছু টাকা পাঠাতে হয়।

তবুও হাসি

ছবিতে যেভাবে তিনি বসে আছেন, তাতে বোঝা যায় সব সব কষ্টের মাঝেও একটা স্বাভাবিক জীবনের ছোঁয়া রাখার চেষ্টা আছে তার। হয়তো পুরনো কাপড় জোড়াতালি দিয়ে , একটা কাঁথা বানিয়েছে নিজের হাতে। তাতে যতই ছেঁড়া থাকুক না কেন, সেটা তার হাতে সেলাই করা, তাতে মায়া আছে। এই কাজই তার জন্য গর্ব। তিনি সেই শ্রমিক, যার আঙ্গুলে রক্ত জমে , তবুও মুখে হাসি।

এই গল্প শুধু শমলার নয়

এই গল্প ঢাকার হাজারো শমলার। যারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর কারখানায় ঘামে গড়ে তুলেছে দেশের অর্থনীতি। অথচ নিজেরাই থাকে নোংরা পরিবেশে। শমলা আমাদের চোখে একজন মহান নারী শ্রমিক । কারণ প্রতিটি পোশাকের সুতোর ভাজে লুকিয়ে থাকে এমন একজন শমলার গল্প, যেটা আমরা দেখি না , শুনি না।

আমরা যা করতে পারি-

এইসব শ্রমিকদের জন্য আমাদের প্রয়োজন আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। ন্যায্য মজুরী, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে সম্মান। এই জিনিসগুলো তাদের প্রাপ্য।

Updated: June 26, 2025 — 12:12 pm

গোডাউনের -ময়লা,ধুলা -বালুর মধ্যেও বেচে থাকা….

যেখানে 40-50 বয়সের শ্রমিক,ভোটার আইডি কাডের্র সমস্যা, বাচ্চা রাখার সমস্যাসহ অনেক শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হয় ,বিভিন্ন গোডাউনে ঝুট বাছাই করা।কম মজুরী সারাদিন কাজ করে 150-200 টাকার কাজ,ধুলার মধ্যে কাজ যা উপার্জন হয় ,সংসারে খরচ চালানো কষ্ট ,শারীরিকভাবে নিজের ,বাচ্চার,শ্বাস কষ্ট হয়। তার খরচ কই পাই।সমাজে সবার কথা ভাবা উচিৎ,গোডাউনের কাজ করা শ্রমিকরা ও তো মানুষ।এখান থেকেও উপার্জন করে ঝুট মালিকরা । তাদের ভাবা উচিৎ এ সকল ঝুট মালিকদের।

Updated: June 22, 2025 — 5:10 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018