নাম শিউলি আক্তার। গ্রামের কলেজ থেকে অনার্স পাস করে। গ্রামে থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ের জন্য নিজের আত্মীয়স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে নানা ধরনের বুলিংয়ের কথা শুনতে হতো। কথাগুলো ছিল এমন যে মেয়ের তো বিয়ের জন্য উপযুক্ত বয়স হয়েছে । শুধু পড়াশুনা জানা থাকলে হয় না পাত্রপক্ষের লোকেরা ফর্সা মেয়ে খুঁজে। মেয়ে তো কালা। গরীব ঘরের মেয়ে ফর্সা থাকলে তো মা বাবা যৌতুক ছাড়া বিয়ে দিতে পারতো। মেয়েটি স্থির করলো সে আর গ্রামে থাকবেনা। নিজে কিছু করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। হঠাৎ একদিন ঢাকায় চলে আসে এবং গার্মেন্টসে চাকুরী নেয়। মাস শেষে যখন গ্রামে টাকা পাঠায় তখন মা বাবা খুশি হয়। এখন লোকেরা বলে তার মা বাবাকে মেয়েকে বিয়ে দিবা ভালো ছেলে আছে যৌতুক লাগবো না। মেয়ে তো গার্মেন্টসে চাকুরী করে। মাস শেষে ভালো টাকা বেতন পায়। শিমুল বলে যে লোকেরা রঙে নয় যোগ্যতা দিয়ে মানুষকে সম্মান দিতে পারতনা তারা এখন আমার খোঁজখবর নেয়। কারণ আমি টাকা আয় করতে শিখে গেছি। চাকুরিটা আমার একটা পরিচয়, আত্মসম্মান ও ক্ষমতা। যার জবাব আমি এই সমাজের মানুষদের নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি।
Day: December 5, 2025
জিবিভির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আমার/আমাদের যুদ্ধ — ঘরে ও বাইরে এক অবিরাম লড়াই
আমি একজন কর্মজীবী নারী। প্রতিদিন নতুন উদ্যমে কাজে বের হই, নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলি, নেটওয়ার্ক গড়ে তুলি—কিন্তু সত্যিটা হলো, আমার জীবনের প্রতিটি ধাপেই আমি জিবিভি (জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা)-র বিরুদ্ধে এক নীরব অথচ কঠিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।
নিজের ঘর থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, অফিস-আদালত—কোথাও যেন বিরাম নেই। ঘর ঠিক হলে বাইরে সমস্যা, বাইরে ঠিক থাকলে ঘরে। এই লড়াইয়ের কোনও একমুখী পথ নেই, নেই সহজ সমাধান।
কাজের সুবাদে বিভিন্ন সংগঠন, অফিস, আদালত ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় মাঝে মাঝে মনে হয়—
“এই সমস্যাটার সমাধান কি আমি নিজেই করে ফেলতে পারবো?”
কিন্তু মুহূর্তেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—সমাজ আমার জন্য কোনও সহজ পথ সাজিয়ে রাখেনি।
আমি চাইলে হয়তো চুপ করে থাকতে পারতাম, চোখ বন্ধ করে কিছু না দেখে থাকার ভান করতে পারতাম। কিন্তু পারি না। কারণ মনের গভীরে বারবার মনে হয়—
আমাকেই করতে হবে, আমাকেই দাঁড়াতে হবে।
পরিবার আজ আমার পথচলাকে মেনে নিয়েছে, সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু সমাজ যেন প্রতিদিন আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে —নারীর স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মত প্রকাশ—সবকিছুই যেন পরীক্ষার মুখে
তবুও আমার প্রশান্তি এক জায়গাতেই—
যখন দেখি ৪–৫ জন মানুষ আমার কারণে উপকৃত হয়েছে, আলো দেখেছে, সাহস পেয়েছে;
যখন বুঝি আমি কারও জীবনে একটুকু আলোর দিশা হতে পেরেছি—
ঠিক তখনই উপলব্ধি করি, আমার লড়াই সার্থক।
জিবিভির শেকড় এতটাই গভীরে প্রোথিত যে আমাদের মতো কয়েকজন মানুষের লড়াইয়ে তা উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। যদি এত সহজ হতো, তাহলে অসংখ্য সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, নেটওয়ার্ক আজও একই কথা বলত না—
“জিবিভি বন্ধ করো, প্রতিরোধ গড়ে তোলো।”
জিবিভি বন্ধের এই যুদ্ধ কোনো ব্যক্তির একার লড়াই নয়—এটি সমষ্টিগত পরিবর্তনের ডাক। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজের জায়গা থেকে দাঁড়াই, কথা বলি, প্রতিরোধ গড়ে তুলি—তবেই হয়তো একদিন সহিংসতামুক্ত সমাজের স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ পাবে।
নামঃরোকসানা ইয়াছমিন শিমুল
সেন্টার কো-অডির্নেটর
বড়বাড়ি-গাজীপুর

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারী শ্রমিক ও শিশুদের ঝুঁকি ও আমাদের করনীয়
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারী শ্রমিক ও শিশুরা সর্বপ্রথম ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই নায্য রুপান্তরে তাদের সুরক্ষা ও নেতৃত্ব অপরিহার্য। শ্রমিকদের জন্য যেমন নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উপযুক্ত মজুরী, দক্ষতার উন্নয়ন, সুনেতৃত্ব প্রয়োজন ঠিক তেমনি শিশুদের জন্য পরিবেশ বান্ধব শিক্ষা ব্যাবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন। নায্য রুপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে শ্রম অধিকার যেখানে শ্রমিকদের নিরাপদ পরিবেশ, উপযুক্ত মজুরী ও সংগঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বব্যাপী সরকার, শ্রমিক এর সক্রিয় অংশগ্রহণ, এনজিও, শিল্প ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমন্বিত উদ্যেগের মাধ্যমে এই রুপান্তরকে নায্য- সমতা ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা জরুরী যেখানে নারী শ্রমিক ও শিশুদের কে বিশেষ ভাবে বিবেচনায় রাখা হবে।







Users Today : 82
Users Yesterday : 232
This Month : 8475
This Year : 41368
Total Users : 121866
Views Today : 290
Total views : 437639
Who's Online : 1