আমার সহকর্মীর গল্প
আমি রুবেলী ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। প্রতিদিন সকালে সাত মাসের ছোট্ট ছেলেটাকে বড় মেয়ের কাছে রেখে কাজে ছুটি। বুকের ভেতর কান্না চেপে রেখে মেশিনের শব্দে নিজেকে ডুবিয়ে দিই। আমি একা নই—আমার মতো হাজার হাজার মা প্রতিদিন একই লড়াই করে যাচ্ছেন।
আমরা যারা শ্রমিক, আমাদের জীবন সহজ নয়। কিন্তু আমাদেরও কিছু অধিকার আছে, যা সরকার আইন করে দিয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)-এর ৯৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনও কারখানায় ৪০ জন বা তার বেশি নারী শ্রমিক থাকেন, তবে সেখানে একটি ডে-কেয়ার বা শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র থাকতে হবে। যেখানে মায়েরা কাজ করার সময় তাঁদের শিশুদের নিরাপদে রেখে যেতে পারবেন।
তবে বাস্তবতা অন্যরকম। অধিকাংশ কারখানাই এই নিয়ম মানে না। কেউ কেউ ডে-কেয়ার রাখে ঠিকই, কিন্তু শর্ত দেয়—শুধু ১ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চা রাখবে! প্রশ্ন হলো, তাহলে একজন মা কি ১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখবেন? নাকি বুকের ধুকপুকুনি নিয়েই সন্তানকে বড় ভাই-বোন বা প্রতিবেশীর হাতে রেখে ডিউটি করবেন?
একজন শ্রমজীবী মা হিসেবে আমি বুঝি, শিশু আর কাজের ভার একসাথে বহন করা কতটা কঠিন। আমি চাই, এই সমাজ, এই রাষ্ট্র আমাদের বোঝার চেষ্টা করুক। আমরা সাহায্য চাই না, শুধু ন্যায্য অধিকার চাই—আমাদের সন্তানদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা চাই।

শ্রমিক মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার শুধু বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজন। ৭ মাসের শিশুও মা চায়। আর মা চায়, তার শিশুটি কাজের সময়টুকুতে নিরাপদ ও যত্নে থাকুক।





Users Today : 79
Users Yesterday : 232
This Month : 8704
This Year : 41597
Total Users : 122095
Views Today : 436
Total views : 439030
Who's Online : 2