৬ মাস ফ্যাক্টরীর গেটে গেটে ঘুইরা চাকরী হইছে,আজ ৩ দিন ধরে হাফ বেলা ডিউটি করে আইসা পরতে হয়।এত জ্বর দাড়ায়া থাকতে পারি না।অফিস থাইকা ডেঙ্গু টেস্ট দিছে।রাবাবের কাটিং সেকশনের ৯ জনের ডেঙ্গু হইছে,সুইং এও ১২/১৩ জনের। এত নোংরা আবার পাশে ড্রেন। কোনদিন মনে হয় পরিষ্কার ও করে না। কতবার অফিসে জানাইলাম তারা গায়েই তোলে না।
১০০০ টাকা নিলো টেষ্ট এ,তায়রুন্নেছা ছাড়া অন্য হাসপাতালের রিপোর্ট ও নেয় না।
নামঃ মোঃ আহনাফ আবিদ (ছদ্ম নাম), বর্তমান ঠিকানাঃ বটতলা, জামগড়া, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা । কর্মস্থল/কারখানার নাম ঃ এবিসি এ্যাপারেলস লিঃ, ঠিকানাঃ আশুলিয়া-ডিইপিজেড রোড, নরসিংহপুর, ইয়ারপুর, আশুলিয়া, ঢাকা-১৩৪১ এ ১০/১২/২০২৩ ইং তারিখ হইতে অত্যান্ত সুনামের সহিত অপারেটর পদে কাজ করিয়া আসিতেছিলাম । গত ২৬/০৫/২০২৪ ইং তারিখ আনুমানিক বিকাল ৫:৩০ ঘটিকার সময় আমার ফ্লোরের লাইনচীফকে জানাই আমার ছুটি লাগবে । তিনি ছুটি নেওয়ার কারন জানতে চাইলে আমি বলি আমার স্ত্রী প্রেগনেট, ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী আগামীকাল বাচ্চা জন্ম দেওয়ার তারিখ । লাইনচীফ রবিউল স্যার সবকিছু জানার পর আমাকে মৌখিকভাবে ছুটি দিয়ে দেন । গত ২৭/০৫/২০২৪ ইং তারিখে গ্রামের বাড়িতে যেয়ে দেখি আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে অনেক অসুস্থ । এরপর তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং ডাক্তার দেখানোর পর হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন । হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আমার স্ত্রী কিছুটা সুস্থ হলে আবার বাড়িতে চলে আসি । বাড়িতে থাকা অবস্থায় লাইনচীফ স্যারের সাথে আমার ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ ছিল, তিনি আমাকে বলতেন যে, কোন সমস্যা নাই তোমার স্ত্রী সুস্থ হলে তারপর তুমি চাকুরীতে জয়েন করো । গত ০৮/০৬/২০২৪ ইং তারিখে কারখানার কাজে উপস্থিত হলে লাইনচীফ স্যার আমাকে এডমিনে ডেকে নিয়ে যান । সেখানে এডমিন ম্যানেজার স্যার আমাকে বলেন যে, তোমারতো চাকুরী নাই । তুমি ১৩ দিন কারখানাতে অনুপস্থিত । এরপর আমি লাইনচীফ স্যারের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ছুটি নেওয়ার কথা জানালে তিনি তা শুনতে চাননি । তিনি আমাকে বলেন, তুমি কারখানা থেকে রিজাইন দিয়ে চলে যাও । আমি আমার চাকুরী ফেরত চাইলে এডমিন ম্যানেজার স্যার জোরপূর্বক আইডি কার্ড রেখে দেন এবং কারখানা থেকে বাহির করে দেন । শ্রমিকের পরামর্শঃ আইনে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধা থাকলেও পিতৃত্বকালীন কোন ছুটি ও সুবিধা নাই । পিতৃত্বকালীন ছুটি একজন পিতার অধিকার । এমন অধিকার বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে । এমন ছুটি আরও আগেই সর্বস্তরে শুরু হওয়া উচিত ছিল । সরকারি এবং বেসরকারিভাবেই পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হোক । সন্তুান পালন নারীর একার দায়িত্ব নয় । এ ক্ষেত্রে বাবা-মা দুজনেরই দায়িত্ব সমান । মাতৃত্বকালীন ছুটির সঙ্গে পিতৃত্বকালীন ছুটিও একজন বাবার অধিকার । তিনি পিতৃত্বকালীন ছুটি হিসাবে একজন বাবা ৩০ দিন বেতনসহ ছুটি চান ।
বাবা জন্ম থেকেই অন্ধ, মা অন্য মানুষের বাসায় কাজ করে, অভাবের ঘরে ছোটকাল এ পড়ালেখার সুযোগ পাই নাই। বাল্যকালে বিবাহের পিড়িতে বসতে হয়। স্বামী সুদের উপর টাকা নিয়ে এক দালাল এর মাধ্যমে একটা গাড়ি কিনে, পরে দালাল টাকাও নষ্ট করলো , গাড়িও নিয়া গেলো, উল্টা মামলার আসামী হইলো আমার জামাই। রাগ কইরা গাড়ীর কাগজপত্র পুইরা ফালাইছি। এখন কাজ করি যা বেতন পাই তা থেকে কিস্তি দেই। কোন রকম একটু মোটা চাইলের ভাত, লবন, মরিচ দিয়ে মাখাইয়া খাই। নোংরা পরিবেশে সন্তানের নিরাপত্তা নাই। তবুও স্বপ্ন নিয়া দিন কাটাই। শ্রমিকের জগৎ সংসার বিশাল জটিল।