”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ”

Bangladesh Center for Workers’ Solidarity

কম্পিউটার ব্যবহার জানব, নিজের কর্মসংস্থান নিজেই করব!

বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্ব। অবাধ তথ্য অধিকার এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ আত্মনির্ভরশীল, সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সহায়ক। প্রতিযোগীতামূলক বিভিন্ন চাকরীর বাজারে কম্পিউটার শিক্ষা বিশেষ যোগ্যতা বলে বিবেচনা করায় শিক্ষিত যুব সমাজ এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইটি দক্ষতা লাভ করে চাকুরীর ক্ষেত্রে সফলতা বয়ে নিয়ে আসছে।

বিশ্ব যেখানে তথ্য ও প্রযুক্তি জ্ঞানে বলিয়ান সেখানে বাংলাদেশর গার্মেন্টস শ্রমিক এবং কমিউনিটির জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য, বিসিডাব্লিউএস এর উদ্যোগে ফ্রী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

মোঃ সাকিব, এসএসসি পাশ করেছে নজর দিঘী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। পিতা- সামাদ মোল্লা, ট্রাক ড্রাইভার এবং মাতা- শামীমা বেগম, গৃহিণী।

মোঃ সাকিব, কমিউনিটির নজর দিঘী স্কুলের শিক্ষক তুষ্ট কুমারের মাধ্যমে জানতে পারেন- বিসিডাব্লিউএস, কোনাবাড়ি সেন্টারে ০৩ মাস মেয়াদের ভিত্তিতে কম্পিউটার কোর্স ফ্রিতে শিখানো হচ্ছে। যেখানে অন্যান্য কম্পিউটার ট্রেইনিং সেন্টারে ০৩ মাসের কোর্স করতে গেলে ৫০০০টাকার প্রয়োজন হয়, সেখানে  বিসিডাব্লিউএস একেবারে ফ্রীতে কোর্সটি সম্পন্ন করে দিচ্ছে। এই আগ্রহ বসেই মোঃ সাকিব ১৩.১০.২০২০ইং তারিখ হতে, বিসিডাব্লিউএস কোনাবাড়ী সেন্টারে নিয়মিত ভাবে কম্পিউটার ট্রেইনিং শুরু করে।

মাত্র ০২ মাসের মধ্যই মো; সাকিব, কম্পিউটার বেসিক জ্ঞান, এমএস ওয়ার্ড এর বাংলা ও ইংরেজী টাইপিং অন্যদের চাইতে ভালভাবে রপ্ত করে ফেলে। এই সামান্য চেষ্টা এবং অভিজ্ঞতায় সে, কমিউনিটির  বোর্ডঘর এলাকায় রায়হান কম্পিউটার নামক প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৩০০০ টাকা বেতনে পার্ট টাইম হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করে।

চাকুরীতে যোগদান করার পর, মো সাকিব- বিসিডাব্লিউএস কোনাবাড়ী সেন্টারে এসে জানায়, এতদিন নিজের হাত খরচের জন্য আব্বার কাছ থেকে চেয়ে নিতে হত এবং অনেক কথা শুনতে হত। এখন এই মাসিক ৩০০০ টাকায় আমার হাত খরচ অনায়াসে চলে যাবে।

নওশাদ রায়হান

বিসিডাব্লিউএস- কোনাবাড়ী।

web: http://www.bcwsbd.org/

Updated: May 23, 2021 — 2:12 pm

BCWS থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষন নিয়ে মহসিনের দিন বদলের কথা

নিম্ন  মধ্যধিত্ত পরিবার থেকে ওঠে আসা, মার্কেটিং এম .বি .এ  পাশ করা ছেলে মহসিন, অনিচ্ছাকৃত হলেও পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য স্থানীয় শিল্প-কারখানা রূপা ফেব্রিক্স এ কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর  পদে চাকুরী নেন। কিন্তু চাকুরী করতে এসে কারখানার ভেতরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও সবার সাথে  অশালীন ব্যবহারে দিশেহারা হয়ে যান ।  কিন্তু নিরুপায় ! চাকুরী না করলে সংসার যে  চলবে না । নিজের বাবা-মা ছোট বোনের  লেখাপড়া । এর মাঝেই কেটে গেল ৩ টি বছর।  নিজের সংসার হলো, কিন্তু ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হলো না । পরিবারের চাহিদা মিটাতে সব কিছু সহ্য করে চাকুরী করতে নিয়মিত চালিয়ে গেলেন।

হঠাৎ একদিন  পাশের সহকর্মীর কাছে জানতে পেরেছিলেন বিসিডব্লিউএস এর কথা, যেখানে বিনা মূল্যে কম্পিউটার এর পেশাগত প্রশিক্ষন দিয়ে দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা হয়।

মহসিন আত্ত্ববিশ্বাসী ছিলেন, ছিলনা শুধু সুযোগ । বিসিডব্লিওএস ছিল সেই সুযোগের ক্ষেত্র । চাকুরীর পাশাপাশি বিসিডব্লিউএস এর উন্নত কম্পিউটার প্রশিক্ষন নিতে থাকলেন ।  bdjobs.com এ একাউন্ট খুলে কিভাবে চাকুরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা যায় তা শিখে ফেললেন এবং সুযোগ খুঁজছিলেন কিভাবে নিজেকে  আর ও উন্নত  কর্ম পরিবেশে নেয়া যায় ।

অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো । একটি  বেসরকারী  শীপিং  অফিস এ  নিয়োগ পান, সেখানে কম্পিউটারে  দক্ষতা আছে এমন লোক প্রয়োজন ছিল। মহসিন ও তার পরিবার বিসিডব্লিওএস এর কাছে কৃতজ্ঞ।

মহসিন এর উক্তিঃ   বিসিডব্লিওএস আমাদের মত দরিদ্রের  অন্ধের লাঠি ।

শিমুল

সেন্টার কো-অর্ডিনেটর

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কারস সলিডারিটি

Updated: May 23, 2021 — 5:01 pm

কল্পনা বেগমের অধিকার আদায়।

কল্পনা বেগম ৫ম শ্রেণী পাস ২ সন্তানের মাতা। বয়স প্রায় ৩৭ বছর। স্বামী নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় চাকুরী করেন। সন্তানদের ভালোভাবে মানুষ করার জন্য এবং স্বচ্ছল ভাবে জীবন যাপন করার জন্য নিজেও কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় পিএন কম্পোজিট কারখানায় চেকার হিসেবে ০১.০৯.২০১৩ইং তারিখে যোগদান করেন।

কল্পনা বেগম বিসিডাব্লিউএস- কোনাবাড়ী শাখার সাথে ২০১৫ সাল থেকে যুক্ত হয়ে জানতে পারেন শ্রম আইনের সার্ভিস বেনিফিটের কথা এবং সেই সাথে জানতে পারেন শ্রম আইনের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে।

কল্পনা বেগম বিসিডাব্লিউএস এর সাথে যুক্ত হবার আগে জানতেন, বাংলাদেশের যে কোন কারখানায় বেতন এবং ওভারটাইম ব্যতীত অন্য কোন ধরনের টাকা দেওয়া হয় না।

হঠাৎ করে পারিবারিক এবং ব্যক্তিগত সমস্যা হবার কারণে ০১.০৬.২০২০ইং তারিখে চাকুরী হতে অব্যাহতি এবং আইন অনুযায়ী পাওনাদি চেয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষ তার সমস্যাগুলি যৌক্তিক বিবেচনা করে অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করেন কিন্তু আইনগত পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন এবং কারখানার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

কল্পনা বেগম সরাসরি কারখানার কর্তৃপক্ষকে বলেন- আইন অনুযায়ী ১৬৪৮০ টাকা পাওয়া আমার আইনগত অধিকার। আপনারা যদি আমার এই টাকা না দেন তাহলে আমি টাকা আদায় করার জন্য যেখানে যাবার সেখানেই যাব।

অবশেষে, ৩১.০৭.২০২১ইং তারিখে কল্পনা বেগম শেষ কর্মদিবসে কারখানা কর্তৃপক্ষ বেতন, ওভারটাইমের টাকা ছাড়াও আইন অনুযায়ী ১৬৪৮০ টাকা পরিশোধ করে থাকে।

এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে, কল্পনা বেগম নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার কারণে। আর এই সচেতনতা তৈরী হয়েছে বিসিডাব্লিউএস এর বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে।

কল্পনা বেগম এখনও বিসিডাব্লিউওস এর সাথে যুক্ত রয়েছেন  এবং আশেপাশের কারখানার শ্রমিকদের আইনগত পাওনা টাকার বিষয়ে পরামর্শ দেন।এভাবেই কল্পনা বেগম নিজের অধিকার এবং অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের জন্য পরামর্শ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

নওশাদ রায়হান

বিসিডাব্লিউএস-কোনাবাড়ী

Updated: May 21, 2021 — 9:31 pm
”শ্রমিক বান্ধব ব্লগ” © 2018